থাইল্যান্ডে ২০২০ সালে গণআন্দোলন গড়ে ওঠে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে। আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন তরুণরা। সেই তরুণরা ৩ বছরে থাই জনগণের মনে যে আশার আলো জ¦ালাতে পেরেছেন, তার প্রমাণ এবারের সাধারণ নির্বাচন। থাই তরুণরা কি পারবেন নিপীড়কদের হটিয়ে দেশে গণতন্ত্র কায়েম করতে? লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
তরুণদের অভাবনীয় বিজয়
থাইল্যান্ডের প্রতিনিধি পরিষদের ৫০০ আসনে ১৪ মে ভোট হয়। পরের দিন অনানুষ্ঠানিক ফল থেকে জানা যায়, পিটা লিমজারোয়েনরাত নেতৃত্বাধীন সংস্থারপন্থি নতুন দল মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি ৫০০ আসনের মধ্যে ১৫২টিতে জিতেছে। পরের অবস্থানে আছে ফিউ থাই পার্টি। তারা ১৪১টি আসন পেয়েছে। এই পার্টির প্রতিষ্ঠাতা থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা। ২০১১ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনে বেশির ভাগ আসনে জিতেছিল এই ফিউ থাই পার্টি। ১৪ মে’র নির্বাচনের ফল সার্টিফাই করতে থাইল্যান্ডের নির্বাচন কমিশন ৬০ দিন সময় পাবে। পিটার দল মুভ ফরোয়ার্ড পার্টির বয়স বেশি নয়, মাত্র তিন বছর। এত অল্প সময়ে দলটির অগ্রগতি দেখে বিস্মিত রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। থাইল্যান্ডের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পিটা সাধারণ নির্বাচনে তার দলের অভাবনীয় বিজয়ে অভিভূত। ৪২ বছর বয়সী এই নেতা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের দেশ পরিবর্তনের পথে। আমার দলকে মানুষ যে পরিমাণ ভোট দিয়েছে, তাতে স্পষ্ট তারা পরিবর্তন চায়। তারা তাদের এই চাওয়া ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে সবাইকে জানিয়েছে। আমি সবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রস্তুত।’ থাইল্যান্ডের আরও আটটি রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে জোট সরকার গঠনে কাজ করছে মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি। তেমনটা হলে ৫০০ আসনের মধ্যে ৩১৪টি আসনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে জোট সরকার গঠনে সক্ষম হবে তারা। তবে প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও তা পিটার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। থাইল্যান্ডের একজন প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীকে অবশ্যই ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির উচ্চ ও নিম্ন দুটো কক্ষেরই সম্মিলিত ভোটে জিততে হয়। এর অর্থ ৭৫০ সদস্যের (৫০০ এমপি ও ২৫০ সিনেটর) মধ্যে কমপক্ষে ৩৭৬ জনের সমর্থন পেতে হবে পিটাকে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, থাইল্যান্ডের প্রতিনিধি পরিষদের ৫০০ এমপি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও উচ্চকক্ষ সিনেটের ২৫০ সদস্যকে নিয়োগ দেয় দেশটির সেনাবাহিনী। এ কারণে পিটাকে এখনই থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলা যাচ্ছে না, কারণ সেনা মনোনীত ২৫০ সিনেটর তাকে ভোট নাও দিতে পারেন, আবার দিতেও পারেন। পিটা যদি থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে তিনি হবে দেশটির দ্বিতীয় কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ১৯৪৫ সালে সেনি প্রমোজ ৪০ বছর বয়সে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।
পিটার শৈশব ও রাজনীতি
১৯৮০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ব্যাংককে এক ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন পিটা। তার বাবার নাম পংসাক লিমজারোয়েনরাত আর মায়ের নাম লিন্ডা লিমজারোয়েনরাত। পিটা তার মা-বাবার বড় ছেলে। তার বাবা প্রয়াত পংসাক লিমজারোয়েনরাত থাইল্যান্ডের কৃষি ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের এক স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর থাইল্যান্ডের থামাসাট বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন পিটা। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক পলিসিতে মাস্টার্স করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে ব্যবসা প্রশাসনে আরেকটি মাস্টার্স করেন পিটা। থামাসাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাসের পর বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপে ব্যবসা পরামর্শদাতা হিসেবে কিছুদিন কাজ করেন পিটা। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করে দেশে ফেরার পর বাবার রাইস ব্রান তেল কোম্পানিতে যোগ দেন তিনি। সে সময় তার বয়স ছিল ২৫। ওই বয়সে কোম্পানিটিকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন পিটা। ২০১৭ সালে পারিবারিক ব্যবসা ছেড়ে রাইড-হেইলিং কোম্পানি গ্র্যাব থাইল্যান্ডে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে যোগ দেন তিনি। গ্র্যাব থাইল্যান্ডে বেশি দিন ছিলেন না পিটা। মাত্র নয় মাস প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরের বছর ২০১৮ সালের মার্চে থাইল্যান্ডে প্রতিষ্ঠা করা হয় ফিউচার ফরোয়ার্ড পার্টি। প্রতিষ্ঠার কয়েক মাস পরেই রাজনৈতিক দলটিতে যোগ দেন পিটা। এক বছর পর ফিউচার ফরোয়ার্ড পার্টির বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ সাহায্যের অভিযোগে ওঠে। ওই অভিযোগের পর দলটির সামনের সারির নেতা থানাথর্ন জুয়ানগ্রুনগ্রুয়াংকিট ও পিয়াবুটর সাংকানোক্কুলকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করে থাই সরকার। শীর্ষ দুই নেতা রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ হওয়ায় ২০২০ সালে ফিউচার ফরোয়ার্ড পার্টি ভেঙে যায়। পরে দলটির নেতাকর্মীরা মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। তারা পার্টির নেতা হিসেবে পিটাকে বাছাই করেন। অনেকের মতে, থানাথর্ন ও পিয়াবুটরের আশীর্বাদেই পিটার মুভ ফরোয়ার্ড পার্টির নেতা হন। থাইল্যান্ড পার্লামেন্টের দ্বিতীয় বৃহৎ বিরোধী দল মুভ ফরোয়ার্ড পার্টির নেতা পিটা তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই প্রায়ুত চান-ওচা সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তার এই অবস্থান তাকে দ্রুতই দেশটির উদীয়মান রাজনৈতিক তারকায় পরিণত করে।
বলিষ্ঠ বার্তা
থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেনাসমর্থিত সরকারকে শক্তিশালী বার্তা দেন দেশটির জনগণ। তাদের বার্তা হলো তোমরা দেশশাসন করো, তা আমরা আর চাই না। থাই তরুণদের বড় অংশ এবার মুভ ফরোয়ার্ড পার্টিকে ভোট দেন। এর আগে থাইল্যান্ডের দীর্ঘ ২০ বছরের জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল থাকসিন সিনাওয়াত্রার ফিউ থাই পার্টিকে তারা ভোট দিয়েছিলেন। এই দুই রাজনৈতিক দল ফিউ থাই ও মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি এবারের নির্বাচনে ব্যাপক ভোট পাওয়ায় আশার আলো দেখছেন থাই তরুণ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। থাইল্যান্ডের চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক থিতিনান পংসুধিরক বলেন, ‘জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে রাজনীতিতে সেনা আধিপত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে। থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে সেনা কর্র্তৃত্ব তারা আর মানতে চাইছে না। ভোট দিয়ে সেনাসমর্থিত সরকারকে তারা এবার সরাসরি বাতিল করেছে।’
গত দুই দশক ধরে থাইল্যান্ডের জনগণ যতবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান, প্রতিবারই তারা সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভোট দেন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। দশকের পর দশক ধরে থাই জনগণ দেখে আসছেন, ভোট দেওয়ার মতো তাদের সামনে কেবল দুটি রাজনৈতিক শক্তি আছে। একটি রক্ষণশীল রাজতন্ত্র ও সেনাবাহিনী সমর্থিত শক্তি এবং অন্যটি জনপ্রিয় ধনকুবের যিনি (থাকসিন সিনাওয়াত্রা) দেশের বাইরে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন, তার দল। এবারের নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলা ও গণতন্ত্রে ফেরার অঙ্গীকার করা মুভ ফরোয়ার্ড পার্টির পিটাকে তাদের অনেকে নেতা হিসেবে মেনে নেন। কারণ নয় বছরের সামরিক শাসনে তারা ক্লান্ত। থাই রাজনীতিকে সেনাবাহিনীর খপ্পর থেকে মুক্ত করা ও রাজতন্ত্রের সমালোচনা করলে অপরাধী হিসেবে গণ্য করার আইন সংশোধনের যে অঙ্গীকার পিটা নির্বাচনের আগে জনগণকে করেন, তা মনে ধরে তাদের। এসব পরিবর্তন তারা দীর্ঘদিন ধরে চেয়ে আসছিলেন। কিন্তু তারা যাকে ভোট দেন, তাকে ক্ষমতায় তারা শেষ পর্যন্ত দেখেন না। এর কারণ জানতে হলে পেছন দিকে তাকাতে হবে। ২০১৪ সালে ক্ষমতা দখল করা থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী দেশটির সংবিধান পুনরায় লেখে। তাদের ওই সংবিধানে বলা হয়, দেশের সরকারপ্রধান কে হবে, তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করবে সেনাবাহিনী। বিপুল ভোটে কেউ জয় পেলেও ক্ষমতায় বসতে তার সেনাবাহিনীর সম্মতি লাগবে।
পথ মসৃণ নয়
থাইল্যান্ডের ক্ষেত্রে বাস্তবতা হলো, কোনো বিরোধী দল বা জোট সরকার গঠনের চিন্তাভাবনা করলে তাকে বা তাদের শক্তিশালী সিনেটকে মোকাবিলা করতে হয়। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, সিনেট সদস্যরা সেনাবাহিনী দ্বারা মনোনীত, সাধারণ জনগণের ভোটে তারা নির্বাচিত নন। স্বভাবতই সেনাপন্থি প্রার্থীদেরই সিনেটররা ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৯ সালে থাইল্যান্ডে সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা সাবেক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা প্রায়ুত চান-ওচা সিনেটরদের ভোটে প্রধানমন্ত্রী হন।
এবার মুভ ফরোয়ার্ড পার্টির নেতা পিটার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা কেবল থাইল্যান্ডের জান্তা সরকারের ওই সংবিধান নয়। পিটাসহ দেশটির সংস্থারপন্থি, প্রগতিশীল নেতারা যে বার্তা জনগণকে দিচ্ছেন, তা থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী, রাজতন্ত্র ও প্রভাবশালী অভিজাত শ্রেণি এই তিন রক্ষণশীল গোষ্ঠীর স্বার্থবিরোধী। গত ২০ বছরে থাইল্যান্ডের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতাকে বাধ্য করা হয়েছে রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে, একাধিক রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করা হয়েছে, নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। ১৯৩২ সাল থেকে ১২টির মতো সফল অভ্যুত্থান দেখেছে থাইল্যান্ডের জনগণ। গত ১৭ বছরেই দুটি অভ্যুত্থান হয় দেশটিতে। থাইল্যান্ডের তথাকথিত স্বাধীন প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও সাংবিধানিক আদালত রাজতন্ত্র, সেনাবাহিনী ও অভিজাত শ্রেণিনিয়ন্ত্রিত।
আশার আলো
থাইল্যান্ডের সংস্কারপন্থি ও প্রগতিশীল শিবির এবারের নির্বাচনের ফলে আশাবাদী। দেশটির চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক থিতিনান বলেন, ‘নির্বাচনে সেনাপন্থি দলগুলো এবার কম ভোট পেয়েছে। নির্বাচনের ফল এতটাই স্পষ্ট যে, এটিকে বদলানো মুশকিল। যদি বদলানো হয়, তাহলে মানুষ চুপ করে থাকবে না। তারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করবে, যেমনটা আগে করেছে।’ মুভ ফরোয়ার্ড পার্টির পূর্বসূরি ফিউচার ফরোয়ার্ড পার্টিকে ২০২০ সালে থাই সরকার বিলুপ্ত ঘোষণা করলে তরুণরা দেশজুড়ে বিক্ষোভ করে। সে সময় থাইল্যান্ডে তরুণ নেতৃত্বের জন্ম হয়। তাদের অনেককে তখন গ্রেপ্তার করা হয়। জেল থেকে বের হওয়ার পর তারাই মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি গঠন করে, যার নেতা এখন পিটা লিমজারোয়েনরাত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ মুহূর্তে আরেকটি অভ্যুত্থান হলে থাইল্যান্ডের শাসকশ্রেণিকে চড়া মূল্য দিতে হবে। আবার কোনো রাজনৈতিক দলকে বিলুপ্ত করলে তার ফলও শুভ হবে না। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষণা সংস্থা লোয়ি ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক প্যাটন বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলকে বিলুপ্ত করা বিপজ্জনক পদক্ষেপ হবে। যদি মুভ ফরোয়ার্ড পার্টিকে বিলুপ্ত না করে তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার পথ থাকে, তাহলে রক্ষণশীল রাজনীতিবিদরা সেই পথেই হাঁটবেন। ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের আকাক্সক্ষার কথা জানিয়েছেন। তাদের আকাক্সক্ষা অগ্রাহ্য করা সহজ হবে না।’
থাইল্যান্ডে মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি তরুণদের মধ্যে এখন ব্যাপক জনপ্রিয়। তারাই বলতে গেলে তাদের ভিত্তি। তবে এবারের নির্বাচনের ফলে দেখা গেছে, তরুণদের বাইরেও এই দলের জনপ্রিয়তা আছে। উদাহরণ হিসেবে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কথা বলা যায়। এই শহর রক্ষণশীল দলগুলোর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু নির্বাচনের অনানুষ্ঠানিক ফলে দেখা গেছে, সেখানকার ৩৩টি আসনের মধ্যে ৩২টি আসনে জয় পেয়েছে মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি। এ বিষয়ে লোয়ি ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক প্যাটন বলেন, ‘এর মাধ্যমে বোঝা যায়, শহরাঞ্চলে বাস করা মানুষ এক দশক ধরে সেনাবাহিনী প্রদত্ত সরকারের ওপর কী পরিমাণ বীতশ্রদ্ধ। তারা এবার ভিন্ন কোনো দলকে ভোট দিতে চেয়েছে। মুভ ফরোয়ার্ড পার্টিকে এখন কেবল তরুণদের দল বলা ঠিক হবে না। এটি তিন বছরে তরুণদের বাইরে বয়স্কদেরও সমর্থন আদায়ে সক্ষম হয়েছে।’