নবজাতক শিশু অত্যধিক কান্না করার সমস্যাকে আমরা বলি নবজাতকের কোলিক। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ছয় সপ্তাহ বয়স থেকে ছয় মাস বয়সের শিশুদের প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে সপ্তাহে তিন দিন যদি পেটে কষ্টকর ব্যথা হয়ে থাকে তাহলে তাকে নবজাতকের কোলিক বা ইনফেন্টাইল কোলিক বলা হয়। তবে শুরুটা ছয় সপ্তাহ বলা হলেও কখনো কখনো দুই সপ্তাহ বয়সেই শিশুদের এ রকম প্রচন্ড কান্নাকাটি করতে দেখা যায়।
কারণ : নবজাতকের কোলিকের কারণগুলো এখনো পুরোপুরি পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়নি। গবেষণা করে সম্ভাব্য কয়েকটি কারণ বের হয়েছে।
দুধের উপাদানের ল্যাক্টোজ অংশটুকু শিশু যদি সঠিকভাবে হজম করতে না পারে তাহলে তার পেটে গ্যাস জমে যায়। গ্যাসের কারণে পেট ফেঁপে ব্যথা করতে থাকে।
অন্ত্রের সংকোচন-প্রসারণে অস্বাভাবিকতাকেও এর জন্য দায়ী করা হয়। অন্ত্রের কিছু হরমোন অস্বাভাবিক পরিমাণে থাকলেও শিশুটির পেটে ব্যথা হতে পারে।
কখনো কখনো খাদ্যথলি থেকে কিছুটা খাবার খাদ্যনালির দিকে চলে আসে, যেটাকে গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স বলা হয়। এর ফলে শিশুর পেটে ব্যথা এবং কান্না হতে পারে। সঠিক নিয়মে বুকের দুধ না খাওয়ানোর ফলে বা বোতলে খাওয়ানোর ফলে শিশুর পেটে অতিরিক্ত বাতাস গিয়ে পেটে ব্যথা হতে পারে। ফরমুলা দুধ হজম করতে না পারলেও শিশুর পেট ব্যথা হয় (ঈড়ংি সরষশ রহঃড়ষবৎধহপব)। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বাবা-মা বা পরিবারের অন্য সদস্যরা টেনশন বা স্ট্রেসে থাকলে শিশুটিও অস্থির হয়ে কান্নাকাটি করে। আবার এ রকম কান্না করলে শিশুর কানে বা অন্য কোথাও জীবাণুর সংক্রমণ আছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া উচিত।
লক্ষণ : নবজাতকের কান্না সাধারণত সন্ধ্যার পর থেকে দেখা যায়, কখনো কখনো অন্য সময়ও শিশু কান্না করতে পারে। শিশু যখন চিৎকার শুরু করে তখন খুব অস্থির হয়ে যায়, মুখ লাল হয়ে যায়, কখনো চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে। শিশু কখনো কখনো এত চিৎকার করে যে, শ্বাস বন্ধ করে রাখে। হাঁটু ভাঁজ করে পেটের দিকে রাখে, চোখ-মুখ কুঁচকে রাখে এবং হাত মুঠি করে থাকে।
চিকিৎসা : যখন চিৎকার করে তখন বুকের দুধ মুখে নিতে চায় না। কোলে নিয়ে হাঁটলেও শিশুটি সাধারণত শান্ত হয় না। প্রথম প্রতিরোধক ব্যবস্থাপনা হচ্ছে, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে প্রতিবার দুধ গেলার সময় শিশু যেন বাতাস না গিলে ফেলে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। দুধ খাওয়ানোর পর শিশুকে কাঁধে তুলে ঢেকুর ওঠাতে হবে। বাবা-মাসহ পরিবারের সবাইকে শান্ত থাকতে হবে, তারা অস্থিরতা প্রকাশ করলে শিশু অস্থির হবে। ব্যথা হলে শিশুর পেটে গরম সেঁক দিলে অনেক সময় ব্যথা কমে যায়। শিশুকে কোলে নিয়ে খোলা জায়গায় ধীরে ধীরে হাঁটলে অনেক সময় কান্না কমে যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে সাপোজিটরি দিয়ে শিশুকে পায়খানা করাতে হবে। অনেক সময় শিশু বিশেষজ্ঞরা কিছু উপকারী অনুজীব, ল্যাক্টেজ এনজাইম দিয়ে থাকেন, যদিও তা পুরোপুরি কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। শিশুর জন্য কষ্টকর হলেও কোলিক ক্ষতিকর কোনো অসুখ নয় এবং ৩-৪ মাস বয়স হতে সম্পূর্ণভাবে ভালো হয়ে যায়। ধৈর্য ধরে শিশুর কান্নার সময় বাবা-মাকে শান্ত থাকতে হবে।