ধান চালে লোডশেডিংয়ের ঘা

দেশের শীর্ষ ধান ও চাল উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর। এই জেলার বাজারে এরই মধ্যে পুরোদমে উঠতে শুরু করেছে নতুন বোরো ধান। কিন্তু সে তুলনায় ধান কিনছেন না মিল মালিকরা। তারা বলছেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো ধান থেকে চাল তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া দফায় দফায় লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের কারণে মিলের যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। ফলে অলস সময় পার করছেন মিলের শ্রমিকরা।

এদিকে মিল মালিকরা কেনা কমিয়ে দেওয়ায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ধানের বাজারগুলোতেও। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি ধানের দাম কমেছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে সরবরাহ কমে চালের দাম বাড়ার শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলার বিভিন্ন ধানের হাট ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সদর উপজেলার শিকদারহাটে শম্পা জাতের ধান ৭৬ কেজির বস্তা ১ হাজার ৯৫০ থেকে ২ হাজার টাকা, আটাশ জাতের ধান ৭৬ কেজির বস্তা ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা, ছত্রিশ জাতের ধান ৭৬ কেজির বস্তা ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা ও নব্বই জিরা জাতের ধান ৭৬ কেজির বস্তা ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক সপ্তাহ আগে শম্পা ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা, আটাশ ২ হাজার ১৫০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, ছত্রিশ ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৩৫০ টাকা ও নব্বই জিরা ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বড়ইল গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘বাজারে ধান কেনার পার্টি (ক্রেতা)  নেই। বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। লোডশেডিংয়ের কারণে ক্রেতারা ধান কিনছে না। তার ওপর আকাশ ঘন ঘন খারাপ (বৃষ্টিপাত) থাকছে। এতে ধান ঠিকমতো রোদে শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। ধান লাগানোর পর থেকে যে খরচ হয়েছে, তার টাকাই উঠবে না। খুবই চিন্তায় আছি।’

কর্ণাই গ্রামের কৃষক কালাম হোসেন বলেন, ‘গত সপ্তাহে ধানের দাম বেশি ছিল। কিন্তু আজ (গতকাল মঙ্গলবার) ধানের দাম অনেক কম। বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে কম। তার ওপর বাজারে ধানের ক্রেতা একেবারেই  নেই।’

মিল শ্রমিক মহসিন আলী বলেন, ‘বিদ্যুতের সমস্যার কারণে মিলের মোটর পুড়ে যাচ্ছে। কাজ ঠিকমতো করতে পারছি না। কাঁচা ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মিলের চাল খারাপ হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুতের এভাবে সমস্যা থাকলে আমরা তো বেকার হয়ে পড়ব। মিল ঠিকমতো না চললে মালিক আমাদের কোথা থেকে বেতন দেবে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না।’

এ প্রসঙ্গে দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক গ্রুপের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও হাসের মোহাম্মদ অটো রাইস মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুল ইকবাল চৌধুরী বলেন,‘ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মিলের যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে মোটর জাতীয় যন্ত্র নষ্ট হচ্ছে বেশি। লোডশেডিংয়ের কারণে প্রতিদিন কোনো না কোনো জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। এসব জিনিসপত্র মেরামত করতে আমাদের বহু সময় নষ্ট হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুরোদমে বাজারে ধান উঠলেও ঠিকমতো ধান কিনতে পারছি না। কারণ ধান থেকে চাল তৈরি করতে পারছি না। এ কারণে বাজারে ধানের দাম কমছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে চালের বাজারে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দাম বাড়তে পারে চালের।’