সুযোগ হলো নতুন স্পিনার দেখার

২০১৬ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটে পেসারদের উত্থান চোখে পড়ার মতো। সে ধারায় এখন জাতীয় দলের লাইনে পেসার অনেক। তুলনায় স্পিনার এসেছে অনেক কম। জাতীয় দলে খেলা কজন বাদে গত কয়েক বছরে তানভীর ইসলাম, রাকিবুল হাসান, নাঈম হাসান ছাড়া সরাসরি জাতীয় দলে খেলার মতো স্পিনার তৈরি হয়নি। ঠিক এই অভাবটা মেটাতেই কিনা এইচপি দলে একটু অপরিচিত স্পিনারদের দেখা মিলল। আরিদুল ইসলাম আকাশ, নাঈম আহমেদ ও নাঈম হোসেন সাকিবরা নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেটের অংশ না হয়েও প্রতিভার জোরে চলে এসেছেন এএইচপি দলে। এখান থেকে ইমার্জিং এশিয়া কাপের দলে সুযোগ হতে পারে কারও। সেখান থেকে হয়তো জাতীয় দলের পথে চলে আসবেন।

জাতীয় দলে প্রায় ১৭ বছর ধরে স্পিনে প্রথম ভরসার নাম হয়ে আছেন সাকিব আল হাসান। এখনো সাকিবই একমাত্র ভরসা। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম (টেস্টে) প্রায় ১০ বছর জাতীয় দলে নিজেদের জায়গা পাকা করে আছেন। টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত আছেন নাসুম আহমেদ। এদের বাইরে গত কয়েক বছরে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া স্পিনার নাজমুল অপু, মোসাদ্দেক হোসেন, শেখ মাহেদী, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও নাঈম হাসান আছেন। এদের মধ্যে অপু, বিপ্লব, মাহেদী এখন জাতীয় দলের বাইরে। মোসাদ্দেক হয়ে উঠেছেন পার্টটাইম স্পিনার আর নাঈম হাসান আছেন টেস্টের চিন্তায়। দেখা যাচ্ছে জাতীয় দলে সরাসরি খেলার মতো স্পেশালিস্ট স্পিনার সাকিব, মিরাজ, তাইজুল, নাসুম, তানভীর ছাড়া এই মুহূর্তে কেউ নেই। বয়সভিত্তিক দলে রাকিবুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন স্পেশালিস্ট স্পিনার হিসেবে আছেন।

স্পিনারদের পাইপলাইন সমৃদ্ধ রাখতে তাই ভবিষ্যতের চিন্তা করতেই হচ্ছে। এ কারণে সুযোগ হওয়ায় নতুন কজন স্পিনারকে রাখা হয়েছে এএইচপি দলে। নতুনদের মধ্যে ২০ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার আরিদুল ইসলাম আকাশ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ওয়ানডে খেলেছেন। ২৫ বছর বয়সী অফস্পিনার নাঈম আহমেদ সিলেট বিভাগের হয়ে তিনটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। আর লেগ স্পিনার নাঈম হোসেন সাকিব এখনো ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেননি। বিসিবির পাইপলাইন দলে ছিলেন চার বছর আগে। ইনজুরি কাটিয়ে এতদিন পর আবার নির্বাচকদের নজরে পড়েছেন। অপর নতুন মুখ বাঁহাতি টিপু সুলতান এবার শাইনপুকুরের হয়ে খেলেছেন ডিপিএল। নির্বাচক হাবিবুল বাশার দেশ রূপান্তরকে জানালেন, ‘ব্যালান্স করার দিক থেকেই দলে অফস্পিনার, লেফট আর্ম স্পিনার বা লেগ স্পিনার রাখা হয়। এএইচপি তো মূলত বয়সভিত্তিক ক্রিকেটার নিয়েই গড়তে হয় তাই চেষ্টা করি যেন অনূর্ধ্ব-২৩ রাখা যায়। থেকে এবার কিছু নতুন স্পিনার পাওয়া গেছে, সেজন্য ওদের রাখা হয়েছে এএইচপিতে। আমরা যখন এইচপি দল করি তখন স্পিন ও পেস দুই বিভাগেই দেখার চেষ্টা করি।’

এইচপি লেগ স্পিনার সাকিবের পাশাপাশি রিশাদ হোসেনও আছেন। অনেকদিন পর বিসিবির কোনো দলে দুই লেগি একসঙ্গে। নির্বাচক হাবিবুল জানান, ‘অবশ্যই আমরা লেগ স্পিনার খুঁজছিলাম কিছুদিন ধরেই। সেখান থেকে একজন নতুন লেগ স্পিনার রাখা হয়েছে। আমাদের জাতীয় দলের ক্যাম্পে সে এসেছিল তখন ওকে দেখে মনে হলো ওকে নিয়ে কাজ করা যায়। এজন্য রাখা। আমরা তো সবসময়ই লেগ স্পিনার রাখতে চাই। লেগিদের প্রয়োজন একটা দলে সবসময়ই থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে লেগিরা খুব একটা সুযোগ হয় না। তাই ওদের সেখানে দেখতেও পাই না। তো এই সুযোগটা জাতীয় দলের পাইপলাইনের দলগুলোতে করা যায়, মানে লেগ স্পিনারদের খেলানোর ব্যাপারটা। এজন্য তো ওদের রেখেছি কারণ এখানে তো লাল বল সাদা বলের ব্যাপার নেই। সব ফরম্যাটেই খেলানো যায় তাই রাখা।’