দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে কাতার থেকে অতিরিক্ত আরও এক থেকে দুই মিলিয়ন টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে কাতারের ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলে জ¦ালানি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে।
কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানির আমন্ত্রণে কাতার ইকোনমিক ফোরাম-২০২৩-এ যোগ দিতে তিন দিনের সরকারি সফরে গত সোমবার দোহার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই সফরে জ¦ালানি নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয়ে কাতারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। নসরুল হামিদ তার ফেরিফায়েড ফেসবুকে লিখেছেন, ‘শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে আমরা কাতার থেকে বিদ্যমান চুক্তির অতিরিক্ত বার্ষিক আরও এক থেকে দুই মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি করতে আগ্রহী। এ ব্যাপারে কাতার সরকারের মনোভাব ইতিবাচক। আশা করি অচিরেই আমরা আপনাদের সুসংবাদ দিতে পারব।’
বর্তমানে কাতারে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গত মঙ্গলবার সে দেশের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ বিন শেরিদা আল কাবি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নসরুল হামিদ। এদিকে গতকাল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে মঙ্গলবার ‘কাতার ইকোনমিক ফোরাম-২০২৩’-এর বৈঠকের সাইড লাইনে কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল মুরাইখি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানোর ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র জানায়, কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি করছে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী বছরে ১ দশমিক ৮ থেকে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি সরবরাহ করবে কাতারের রাস লাফান লিকুফাইড ন্যাচারাল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড। চলতি বছর কাতার থেকে ৪০টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে গত এপ্রিল পর্যন্ত ১৪টি কার্গো এসেছে। একটি কার্গোতে প্রায় ৬২ হাজার মেট্রিক টন এলএনজি পরিবহন করা যায়। তবে প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে দুই পক্ষের আলোচনার পর এলএনজি আমদানির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কাতারের পাশাপাশি ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে ২০১৯ সাল থেকে। চুক্তি অনুযায়ী বছরে এক থেকে দেড় মিলিয়ন টন এলএনজি বাংলাদেশে সরবরাহের কথা দেশটির।