‘অগ্নিবীণা’ বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করতেন নজরুল: ঢাবি উপাচার্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৪তম জন্মদিন পালিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য চিল ‘অগ্নিবীণার শতবর্ষ: বঙ্গবন্ধুর চেতনায় শাণিত রূপ’।

কবির জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, ‘নজরুল তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ যাকে উৎসর্গ করেছেন, সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেই বারীন্দ্র কুমার ঘোষ ছিলেন তৎকালীন সমগ্র ভারত ও বাংলার মহানায়ক। আমরা ধারণা যদি তিনি (নজরুল) সুস্থ থাকতেন এবং তার (বঙ্গবন্ধু) বয়স সেই রকম হতো, যা হয়েছিল চল্লিশের দশকে, তিনি সেই সময়ে যে অসামান্য অবদান রেখেছেন, কবি নজরুল হয়তো এই কাব্যগ্রন্থটি বঙ্গবন্ধুর নামেই উৎসর্গ করতেন’।

ঢাবি উপাচার্য আরো বলেন, ‘কেননা একটি জাতির রাষ্ট্র সৃষ্টির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু যে অবদান রেখেছেন, কাজী নজরুল তার এই কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গের জন্য সব বৈশিষ্ট্য বঙ্গবন্ধুর মাঝে খুঁজে পেতেন’।

বৃহস্পতিবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি প্রাঙ্গণে কবি’র ১২৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য এসব বলেন।

এর আগে সকালে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা শোভাযাত্রা নিয়ে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে কবির সমাধি প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা ও সংগীতানুষ্ঠান হয়।

আলোচনা সভায় আখতারুজ্জামান বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের বিদ্রোহী ও জাতীয় কবি। তিনি সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা, মানবতা, প্রেম ও ভালোবাসার কবি। বিভিন্ন ক্রান্তিকালে ও সংকটময় পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর কাছে অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস ছিলো কবি নজরুলের কবিতা ও গান।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের ১২টি অনবদ্য কবিতার বৈপ্লবিক, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।

এ দিকে পরিবারের পক্ষ থেকে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী বলেন, তিনি আজীবন মানুষের জয়গান গেয়েছেন, সবাইকে একই গাছের তলায় এনে দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন এবং ভীষণভাবে অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ ছিলেন তিনি। অন্যায়ের প্রতিবাদে মুখর ছিল তার লেখনী। আজ যেসব জাতিগত বিভেদ দেখা যাচ্ছে, কাজী নজরুল ইসলাম বেঁচে থাকলে সেগুলো হতো না। বেঁচে থাকলে তিনি সমাজটাকে বদলে দিতেন।

তিনি বলেন, তাকে জাতীয় কবি বলা হলেও আমরা তাকে নিয়ে সবপর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি। পশ্চিমবঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে ছুটি ঘোষণা করা হয়। আমি অনেক দিন ধরে কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিনটি ছুটি ঘোষণার কথা বলে আসছি।

এদিন জাতীয় কবির জন্মদিনে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানায় আওয়ামী লীগ, বিএনপির, বাংলা একাডেমি, ঢাবির বিভিন্ন হল, ঢাকা নজরুল সেনা, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।