প্রতারণার টাকায় ডুপ্লেক্স বাড়ি

পুলিশের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে অভিনব কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে কামাল হোসেন নামে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার হীরাঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন।

সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুল হোসেইন তুহিন জানান, প্রতিদিন ভোর ৬টায় ভিকটিমদের ফোন দেন গ্রেপ্তার কামাল। তিনি নিজেকে ডিবির সদস্য দাবি করেন। তারপর ভুক্তভোগীদের বলেন, আপনার ছেলে কী করে খোঁজখবর রাখেন? এরপর ছেলের কী হয়েছে জানতে চাইলে উত্তরে বলেন, ছেলেকে একটি মেয়েসহ হোটেল থেকে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত অবস্থায় আটক করা হয়েছে। ছেলেকে মামলা থেকে বাঁচাতে চাইলে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠাতে হবে। বিষয়টি নিয়ে কারো সঙ্গে আলোচনা করা যাবে না। অন্যথায় ছেলের অনেক বড় ক্ষতি হবে। এভাবে প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ১০০-১৫০টি নম্বরে ফোন দিতেন। এর মধ্যে ২/৩ জনের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ১ থেকে ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতেন।

পুলিশ জানায়, কামাল ২০১৪ সালে ঢাকায় এসে বাংলালিংক কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন ছাড়া সিম কিনে নারীদের টার্গেট করতো। তাদের সঙ্গে কথা বলে নিজেকে বড় লোকের ছেলে পরিচয় দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতো। পরে তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য গন্তব্যস্থলে পৌঁছার আগে বলতো তার এক্সিডেন্ট হয়েছে। এভাবে প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে এক্সিডেন্টের কথা বলে প্রেমিকাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিত। এখন পর্যন্ত ৪ কোটি টাকারও বেশি টাকা আত্মসাৎ করেছে। প্রতারণার টাকা দিয়ে সে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে ২ কোটি টাকা সুদের কারবারে বিনিয়োগ করেছে। বাকি টাকা দিয়ে ৪৩ শতক জমি ক্রয় ও একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছে।