ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাপোরিঝিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে বড় দুর্ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা করছে রাশিয়া, এমনটাই দাবি জানিয়েছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা অধিদপ্তরের গোয়েন্দা সূত্র।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, দখলকৃত অঞ্চল পুনরুদ্ধারের জন্য ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রত্যাশিত পাল্টা আক্রমণকে ব্যর্থ করতে জাপোরিঝিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে সামরিক কার্যকলাপ বাড়িয়েছে রাশিয়া। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে যেকোনো মুহূর্তে পারমাণবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগেও রাশিয়ান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিদ্যুকেন্দ্রটিতে একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে কিয়েভ ও মস্কো।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানিয়েছে, "রাশিয়ানরা জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রে কয়েকদিন ধরেই ব্যাপক উস্কানি ও অনুকরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা জাপোরিঝিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে আক্রমণ করার পরিকল্পনা করছে। এর পরে, তারা তেজস্ক্রিয় পদার্থ লিকের ঘোষণা দিবে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্ল্যান্ট থেকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ লিকের ঘটনা ফাঁস হলে আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের দ্বারা তদন্ত করতে বাধ্য করবে,এই সময়ে বাধ্য হয়ে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এই সুযোগে রাশিয়া তার বাহিনীকে পুনরায় সংগঠিত করতে এবং ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ বন্ধ করার জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে যুদ্ধে সেই বিরতি ব্যবহার করবে।
ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের মতে, রাশিয়া স্পষ্টতই এ ঘটনার জন্য ইউক্রেনকে দোষারোপ করবে। তাদের আক্রমণের উদ্দেশ্য হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঘটনাটি তদন্তে এবং যুদ্ধে বিরতি দিতে বাধ্য করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়লে অবিলম্বে আশপাশের অঞ্চলের জনগণদের সরিয়ে নিতে হবে যা যুদ্ধের মধ্যে অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া হতে পারে।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও এর আশপাশে প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম বাড়াচ্ছে রুশ বাহিনী।