আমাদের প্রত্যেকেরই মোটামুটি কমন একটি সমস্যা হলো ঘাড়ে ব্যথা। যেকোনো বয়সী যে কারও এমন হতে পারে। এই ঘাড়ব্যথা কারও অল্প সময়ের জন্য হয়। কারও আবার দীর্ঘ সময়ের জন্য থাকে। কেউ অল্প সময় বিশ্রাম নিলে ব্যথা কমে যায়। তবে কখনো কখনো ঘাড়ের ব্যথার জন্য মাথা চারদিকে নড়াচড়া করতে সমস্যা হয়। তখনই এটি ঘাড়ে ব্যথা বলে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। মেডিক্যালের ভাষায় স্কালের নিচ থেকে মেরুদ-ের ওপরের সাতটি হাড়ের সমন্বয়ে গঠিত অংশকে বলা হয় সারভাইক্যাল রিজন। এ সারভাইক্যাল রিজনকে আবার (ঈ১, ঈ২, ঈ৩, ঈ৪, ঈ৫, ঈ৬, ঈ৭) দ্বারা চিহ্নিত করে থাকে। এর সঙ্গে কিছু লিগামেন্ট, মাসেল থাকে, যা ঘাড় ও মাথা সংযুক্ত করে। ঘাড়ের যেকোনো ইনজুরির কারণে অথবা মাংসপেশির অতিরিক্ত টানের কারণে কিংবা ঘাড়ের হাড়ের ক্ষয়জনিত কারণে ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। ঘাড়ের ব্যথায় পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।
কমন কারণ : ঘাড় অথবা কাঁধের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া। ভুল পজিশনের কারণে অথবা দীর্ঘক্ষণ একই পজিশনে বসে থাকা। লিগামেন্ট ইনজুরি। ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্কের সমস্যা। মাথায় বা বাম কাঁধে অতিরিক্ত ভারী কিছু বহন করা। দীর্ঘদিন একই পজিশনে কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যবহার করা। ভ্রমণ করার সময় পেছন থেকে ধাক্কা লাগা। উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপের কারণেও সমস্যা হতে পারে। হাড়ের ক্ষয়জনিত কারণে হতে পারে। যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, সারভাইক্যাল স্পন্ডালাইসিস, পোলিওমাইলাইটিস সারভাইক্যাল ডিস্ক প্রলাপ্স ইত্যাদি।
সাবধানতা : দীর্ঘ সময় ধরে একই পজিশনে ঝুঁকে কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ঘুমানোর সময় নরম এবং নিচু বালিশ ব্যবহার করতে হবে। একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত কিছু ব্যায়াম করতে হবে। মাথায় ও কাঁধে ভারী কিছু বহন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম নিতে হবে।