দুই সপ্তাহের অপেক্ষা শেষে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ আজ। আজই নির্ধারিত হবে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান আরেক মেয়াদ থাকতে পারবেন কি না। অবশ্য অনেকে বলছেন, প্রথম দফার নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোট পাওয়ায় এবং তার দল পিপলস অ্যালায়েন্স পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় দ্বিতীয় ধাপেও উতরে যাওয়ার সম্ভাবনা এমনিতেই ছিল এরদোয়ানের। এর মধ্যে প্রথম দফার নির্বাচনে ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় হওয়া সিনান ওগানও এরদোয়ানকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে ৪৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট পাওয়া কামাল কিলিচদারোগলুর পক্ষে তাকে টপকে যাওয়া সহজ হবে না।
দুই দশক ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। দেশটিতে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে ব্যাপক। পূর্ব ও পশ্চিমের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক ধরে রেখেছেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি ও ফেব্রুয়ারিতে ভয়াবহ ভূমিকম্প তার ক্ষমতার ভিত নড়িয়েছে। এসব কারণে ১৪ মে প্রথম ধাপের নির্বাচনের আগে অনেকে মনে করেছিলেন এরদায়ান হয়তো এবার হেরে যাবেন। বিবিসি বলছে, এবারের নির্বাচনে অনেক ভোটার এরদোয়ানের নেওয়া বিভিন্ন নীতির বিরোধী ছিলেন। কিন্তু প্রথম দফার ভোটের ফল চমকে দেয় সবাইকে। আরও চমক আসে সিনানের সমর্থনের খবরে।
এ কারণে দেশটির ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় দফায় ভোট হলেও তেমন উত্তাপ লক্ষ করা যাচ্ছে না। আজ রবিবারের ভোট তুরস্কের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হলেও দেশটির অনেকেই ধরে নিয়েছেন এরদোয়ানের হাতেই থাকছে দেশটির শাসন ক্ষমতা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রান-অফ নির্বাচন নিয়ে দেশটিতে তেমন উত্তাপ লক্ষ করে যাচ্ছে না। যেমনটি দেখা গিয়েছিল দুই সপ্তাহ আগে। ইস্তাম্বুলের তোফানের ৪৯ বছর বয়সী বাসিন্দা সোনার ওগোরলু বলেছেন, এটি অন্যরকম অনুভূতি। আমার মনে হচ্ছে নির্বাচন শেষ। কিন্তু রবিবার আরেকটি নির্বাচন আছে। আমি অবশ্যই ভোট দেব। কিন্তু বিষয়টি অদ্ভুত লাগছে, কারণ দুই সপ্তাহ আগে পরিবেশ যে রকম ছিল। সে তুলনায় সবকিছু বেশ শান্ত।
নির্বাচনের প্রথম ধাপে এরদোয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে না পারার বিষয়টি বিরোধীদলীয় সমর্থকদের জন্য বেশ বড় একটি ধাক্কা হিসেবে এসেছে। তাদের অনেকেই এখন বেশ হতাশ। তাদেরই একজন সিহাঙ্গিরের কাপড়ের দোকানের ব্যবসায়ী ওলকে। তিনি আল জাজিরাকে বলেছেন, ১৪ মের আগে আমি অনেক আশাবাদী ছিলাম। কারণ ভেবেছিলাম অবশেষে এরদোয়ানের কাছ থেকে মুক্তি পাব। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সে অপ্রতিরোধ্য। তিনি বলেন, এসব (অর্থনৈতিক) সমস্যায় সবাই বেশ ক্লান্ত। আবার উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দেওয়ার বিষয়টি খুবই কঠিন হবে। কারণ মনে হচ্ছে বিষয়টি শেষ। কিন্তু আমি অবশ্যই ভোট দেব। এটি আমার দায়িত্ব।