কম বয়সে হজপালন নিয়ে বিভ্রান্তি নয়

অনেক সাধারণ মানুষ সামর্থ্য হওয়ার পরও মনে করেন, কেন কম বয়সে (অতিশয় বৃদ্ধ কিংবা অবসর জীবনের আগে) হজ করব? হজ করলে তো আমাকে হজ ধরে রাখতে হবে! পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলাম অনুসরণ না করা পর্যন্ত তো হজে যাওয়া ঠিক হবে না! হজ করলে তো আর টিভি, গান-বাজনা দেখা যাবে না! সহজ পন্থায় (অবৈধ) অর্থ উপার্জন করতে পারব না! হজ করার পর যদি আমি খারাপ কাজে লিপ্ত হই তাহলে লোকেই বা কী বলবে! ... সুতরাং এখন জীবনকে উপভোগ করি, আর কিছু টাকা পয়সা উপার্জন করে নেই। আর তারপর বৃদ্ধ বয়সে যখন কোনো কিছু করার থাকবে না তখন গিয়ে হজ করে আসব! তখন আল্লাহ অবশ্যই আমার অতীতের সব পাপ মাফ করে দেবেন এবং আমি ইনশাআল্লাহ জান্নাতে যেতে পারব! কি যুক্তি আর বুদ্ধিমান আমরা চিন্তা করেছেন!

কেউ যদি মনে করেন, আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর সঙ্গে চালাকি করব, তাহলে মনে রাখবেন এর মাধ্যমে আমরা আসলে আমাদের নিজেদেরই বোকা বানাচ্ছি, দোষী করছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত হব। যারা সামর্থ্য হওয়ার পরও হজকে মুলতবি (পালনে বিলম্ব) করে রেখেছেন তাদের জন্য বড় সতর্কবাণী হলো হজরত ওমর (রা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ পরিত্যাগ করল, সে ইহুদি হয়ে মরুক অথবা খ্রিস্টান হয়ে মরুক তাতে কিছু যায় আসে না।’ সুনানুল কুবরা : ৮৯২৩

হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেছেন, ‘আমার ইচ্ছা হয়, কিছু লোককে রাজ্যের শহরগুলোতে প্রেরণ করি এবং তারা খুঁজে দেখুক ওই সব লোককে; যাদের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজপালন করে না তাদের ওপর জিজিয়া কর আরোপ করা হোক। কেননা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা হজপালন করে না তারা মুসলিম নয়, তারা মুসলিম নয়।’

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে হজপালন করতে চায় সে যেন দ্রুত তা পালন করে। কেননা সে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে অথবা কোনো সমস্যায় জর্জরিত হয়ে হজ করার সুযোগ হারাতে পারে।’ সুনানে আবু দাউদ : ১৭৩২

হজের সামর্থ্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হজপালন করা উচিত। কারণ মৃত্যু কখন চলে আসতে পারে তা জানা নেই। অলসতার কারণে একটি ফরজ ইবাদত বাকি রেখে মারা গেলে তো আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।