যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নীতি ঘোষণা করার পর সরকার ‘সুবোধ বালক’হয়ে যাওয়ার ভান করছে। বিরোধীরা সরকারের ফাঁদে পা দেবে না। বর্তমান সরকারের অধীনে তারা কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। এই বক্তব্য এসেছে গণ অধিকার পরিষদের এক আলোচনা সভায়।
আজ বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘সুষ্ঠু নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি ও বাংলাদেশের সংকট’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে গণ অধিকার পরিষদ।
সভায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন,বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আরেকটি ভোট ‘চুরি’র পরিকল্পনা বুঝতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে। সরকার ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো আরেকটি ভোট চুরির নির্বাচন করতে চায়। এই পরিস্থিতি দেখে নির্বাচনের সাত মাস আগেই যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ভিসা নীতি আওয়ামী লীগের জন্য বজ্রপাতের মতো ঘটনা। দেশের জন্য অপমানকর, লজ্জার এই ভিসা নীতি নিয়েও আওয়ামী লীগের নেতারা হাসি-ঠাট্টা করছেন।
সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত মোফাজ্জল করিম বলেন, দুই বড় রাজনৈতিক দলের বাইরে আরেকটা দল আছে, ‘নীরব দল’। তারা দেখে, শোনে, বুঝে কিন্তু কিছু বলে না। তিনি বলেন, সরকারের আর গলাবাজি করতে হবে না। সারা বিশ্বের মানুষ জেনে গেছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি।
গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক নুর বলেন, সরকার নানাভাবে বিরোধীদের আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিরোধীরা সংঘাত চায় না। সরকারের সামনে সহজ রাস্তা। পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেন।
সাবেক রাষ্ট্রদূত সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রণ না পাওয়া ছিল সতর্ক বার্তা। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা একটি বলিষ্ঠ অস্ত্র হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, রোম শহর যখন পুড়ছিল, একজন বাঁশি বাজাচ্ছিল। আমাদের দেশের বড় দুই দলের একই অবস্থা। ভিসা নীতির দায় একে অপরের অপর চাপাচ্ছে। এই ভিসা নীতি গণতন্ত্রের জন্য ভালো কথা না। কাদা–ছোড়াছুড়ি না করে বর্তমান সমস্যার সমাধানে আলোচনায় বসতে হবে।