শিক্ষায় বরাদ্দ

শতাংশে কমেছে, টাকার অঙ্কে সামান্য বেড়েছে

২০২২-২৩ অর্থবছরের চেয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সামগ্রিক বাজেটের আকার ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ বড়। কিন্তু বাজেটের আকার বাড়লেও শতাংশের হিসেবে শিক্ষায় বরাদ্দ কমেছে দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে টাকার অঙ্কে শিক্ষায় বরাদ্দ কিছুটা বেড়েছে।

আসন্ন অর্থবছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি মিলে মোট বাজেটের ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এককভাবে শিক্ষা খাত হিসেবে করলে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার জন্য বরাদ্দ ১১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। টাকার অঙ্কে তা ৮৮ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। যদিও চলতি অর্থবছরে শিক্ষায় বরাদ্দ ছিল ১২ দশমিক ০১ শতাংশ বা ৮১ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা।

ইউনেস্কো, শিক্ষাবিদ বা অংশীজনরা দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষায় জিডিপির কমপক্ষে ৪ শতাংশ বরাদ্দের কথা বলছেন। এটাকে তারা বরাদ্দ হিসেবে না দেখে আগামী দিনের বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে পরামর্শ দেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষার বরাদ্দ ১২ শতাংশের আশপাশেই ঘুরপাক খাচ্ছিল। জিডিপির হিসেবেও তা ছিল ২ শতাংশের কাছাকাছি। চলতি অর্থবছরে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ ছিল জিডিপির ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ২ দশমিক ০৮ শতাংশ। অথচ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ালো জিডিপির ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিক্ষায় জিডিপির ২ শতাংশের নিচে বরাদ্দ দেওয়াটা মোটেই কাঙ্ক্ষিত নয়। আগামী অর্থবছরে শতাংশের হিসেবে অন্তত ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ বরাদ্দ দিয়ে ভালো হতো। আমাদের কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় আরও বেশি নজর দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেটা আগামী অর্থবছরের বাজেটে দেখা যায়নি।

অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন, আগামী বছরের বাজেটে মিড ডে মিলের জন্য বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে, যা খুবই ভালো উদ্যোগ। এছাড়া আমাদের যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে। শিক্ষায় যেই বরাদ্দই হয়েছে না কেন এখন তার সঠিক ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে।

আগামী অর্থবছর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩৪ হাজার ৭২২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু চলতি অর্থবছরে তা ছিল ৩১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ৪২ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ১০ হাজার ৬০২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে চলতি অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ৩৯ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল সরকার।

জানা যায়, বাজেট ঘিরে প্রতিবছরই বেসরকারি শিক্ষকদের অন্যতম দাবি থাকে-শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ বাড়ি ভাড়া ও শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান। আর নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণের প্রক্রিয়া চলমান রাখাও শিক্ষকদের অন্যতম দাবি। কিন্তু সেসব বিষয়ে বাজেটে সুস্পষ্ট উল্লেখ নেই। তবে এমপিওভুক্তির জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ মিলে আগামী অর্থবছরে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।