রাশিয়া ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত চেচনিয়া রিপাবলিকের সেনাদের ইউক্রেনে জড়ো হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের নেতৃত্বে ইউক্রেন যুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার জন্য তাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছে রুশ সেনা কমান্ডাররা।
সম্ভবত আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই চেচেন এই সেনারা ইউক্রেন যুদ্ধে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক একটি সংস্থার বরাতে বৃহস্পতিবার (০১ জুন) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
দুর্ধষ চেচেন এই সেনাদের এমন এক সময় যুদ্ধে জড়ো হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল, যখন ইউক্রেন থেকে চলমান আন্তঃসীমান্ত হামলার মধ্যে রাশিয়ার আরেক অঞ্চল বেলগোরোদ থেকে কমপক্ষে ১ হাজার শিশুকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন গভর্নর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক সংস্থা স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ)। ওয়াশিংটনভিত্তিক এ সংস্থাটি তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এদিন জানিয়েছে, বাখমুত থেকে ওয়াগনার সেনারা চলে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রুশ সামরিক কমান্ডারদের নির্দেশে চেচেন সেনাদের মোতায়েন করা হচ্ছে। তারা মূলত ইউক্রেন যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বুধবার চেচনিয়া রিপাবলিকের নেতা রমজান কাদিরভ জানিয়েছেন, তিনি সেনা কমান্ডারদের কাছ থেকে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বের অঞ্চল দোনেৎস্কের দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশনা পেয়েছেন। ‘সক্রিয় যুদ্ধ কার্যক্রমের’ মধ্য দিয়ে দোনেৎস্কের কয়েকটি অঞ্চলকে ‘স্বাধীন’করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে। আর এ নির্দেশনা অনুযায়ী তার সেনারা সম্মুখ যুদ্ধে লড়াই করবে।
কাদিরভ আরও জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সেনাদের সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণের আগেই তার চেচেন বাহিনীর স্পেশাল ফোর্স— ইউক্রেনের সেনাদের ওপর হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে স্টাডি অব ওয়ারের দাবি, চেচেন সেনাদের ইউক্রেন যুদ্ধে অংশগ্রেহণের বিষয়টি সত্যি হলে, এর মধ্য দিয়ে গত এক বছর ধরে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখভাগ থেকে দূরে থাকা কাদিরভের বিরতির অবসান হবে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, ‘খুব সম্ভবত রাশিয়ার কমান্ডাররা মনে করছে, ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে সমক্ষম হবে চেচেন সেনারা। একই সঙ্গে তারা এও জানিয়েছে, বর্তমানে ইউক্রেনে ৭ হাজার চেচেন সেনা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে এই স্বল্পসংখ্যক চেচেন সেনা ইউক্রেন যুদ্ধে বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। তাদেরকে যুদ্ধের সম্মুখভাগে এমন সময় ফেরানো হচ্ছে যখন রাশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে নিয়মিত হামলা হচ্ছে।