হিলি স্থলবন্দরে বন্ধ শুল্কায়ন ও খালাস

জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট পেশের কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আমদানিকৃত পণ্যের বিল অব এন্ট্রিসাবমিট, পরীক্ষণ, শুল্কায়ন ও আউটপাস কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে স্বাভাবিক ছিল বন্দর দিয়ে দুদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দরের ভেতরের সব কার্যক্রম। আগের আউটপাসকৃত পণ্যগুলো বন্দর থেকে ছাড় নিতে পারলেও গতকাল বৃহস্পতিবার যেসব পণ্য প্রবেশ করছে সেগুলো ছাড় নিতে পারেননি ব্যবসায়ীরা।

হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সোহেল রানা বলেন, আজ (গতকাল) সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট পেশ হয়েছে। এ কারণে কাস্টমসের সার্ভার বন্ধ থাকায় হিলি স্থলবন্দরে আমদানিকৃত পণ্যের বিল অব এন্ট্রি সাবমিট থেকে শুরু করে পণ্যের পরীক্ষণ শুল্কায়ন ও আউটপাস কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রতি বছর বাজেট পেশের কারণে কাস্টমসের সার্ভার বন্ধ থাকে। যার কারণে আমরা গতকালকেই আমদানিকৃত পণ্যের বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করে সেগুলোর পরীক্ষণ শুল্কায়ন সম্পূর্ণ করে শুল্ক পরিশোধ করে আউটপাস করে রেখেছি, আজ (গতকাল) সেগুলো বের করেস নেব। তবে গতকালকের কিছু পণ্য আটকা রয়েছে সেগুলোর কোনো কাজ আজ হচ্ছে না। সেই সঙ্গে আজ নতুন করে বন্দর দিয়ে যেসব পণ্য আমদানি করা হচ্ছে সেগুলোর বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করা যাচ্ছে না। যার কারণে এসব পণ্যের পরীক্ষণ শুল্কায়ন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে যার ফলে ওইসব পণ্য বন্দরে আটকা থাকবে। তবে আমরা অপেক্ষায় রয়েছি বিকেলের পর যদি সার্ভার সচল হয় সে সময়ে পণ্যগুলো খালাসের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার বায়জিদ হোসেন বলেন, আমাদের কাস্টমসের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয় এস্যাইকোডা ওয়ার্ল্ড নামক সফটওয়্যার দিয়ে। আজ (গতকাল) জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হয়েছে। বাজেটে অনেক পণ্যের শুল্কহার কম বেশি করা হয় এমন যেসব পরিবর্তন আসবে সেগুলো ওই সফটওয়্যারে সংযুক্ত করে দেবে। যার কারণে গতকাল (পরশু বুধবার) রাত ১২টা থেকে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ যা আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। আজ (গতকাল) সকাল থেকে হিলি কাস্টমসে আমদানিকৃত পণ্যের বিল অব এন্ট্রি সাবমিট থেকে শুরু করে পণ্যের পরীক্ষণ, শুল্কায়ন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আপলোড কার্যক্রম শেষে সার্ভার সচল হবে সে সময় থেকে এসব কার্যক্রম আবারও শুরু হবে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দরের অভ্যন্তরে ভারত থেকে আমদানিকৃত পূর্বের বিভিন্ন ধরনের পণ্যবোঝাই ২০১টি ট্রাক হল্টেজ অবস্থায় ছিল। দুপুর পর্যন্ত এর মধ্যে ১৫টি ট্রাক থেকে পণ্য খালাসের জন্য লোড সিøপ নিয়েছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। তবে, ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ অব্যাহত থাকায় বন্দর দিয়ে দুদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।