গুলশান-বনানী-মহাখালীতে জমির নিবন্ধনে কাঠাপ্রতি কর ২০ লাখ টাকা

নতুন (২০২৩-২৪) অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিবন্ধন খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এর ফলে এখন থেকে ফ্ল্যাট-প্লট কিনলে খরচ বাড়বে। জমি নিবন্ধনে চুক্তিমূল্যের ৮ শতাংশ কর করার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। যা বর্তমানে আছে চুক্তিমূল্যের ৪ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন। আলোচনা শেষে আগামী ২৬ জুন এই বাজেট পাস হবে।

মন্ত্রী তার প্রস্তাবে এলাকাভিত্তিক কাঠাপ্রতি ন্যূনতম করও নির্ধারণ করে দিয়েছেন। গুলশান, বনানী, মতিঝিল, দিলকুশা, নর্থ সাউথ রোড, মহাখালী এলাকায় জমির নিবন্ধন করা হলে চুক্তিমূল্য বা বিক্রয়মূল্যের ৮ শতাংশ কিংবা কাঠাপ্রতি ২০ লাখ টাকার মধ্যে যেটি বেশি হবে, ওই পরিমাণ কর দিতে হবে। ওই সব এলাকায় প্রতি কাঠায় ২০ লাখ টাকা কর দিতে হবে।

সোনারগাঁও জনপথ, শাহবাগ, পান্থপথ, বাংলামোটর, কাকরাইল, কারওয়ান বাজার ও উত্তরায় কাঠাপ্রতি ১২ লাখ টাকা; নারায়ণগঞ্জ, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, বাড্ডা, সায়েদাবাদ, পোস্তগোলা, গেন্ডারিয়া, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ও সিডিএ অ্যাভিনিউতে কাঠাপ্রতি ৮ লাখ টাকা; নবাবপুর ও ফুলবাড়িয়ায় কাঠাপ্রতি ন্যূনতম ৬ লাখ টাকা কর দিতে হবে।

এছাড়া উত্তরা (১-৯ সেক্টর), খিলগাঁও পুনর্বাসন এলাকা, আজিমপুর, রাজারবাগ, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ, হালিশহর, পাঁচলাইশ, নাছিরাবাদ, মেহেদীবাগে কাঠাপ্রতি ন্যূনতম ৩ লাখ টাকা; গুলশান ও বনানীর কিছু অংশ, ধানমন্ডি, বারিধারা ডিওএইচএস, বনানী ডিওএইচএস, মহাখালী ডিওএইচএস, বসুন্ধরা (ব্লক এ-আই), নিকেতন ও বারিধারায় ১০ লাখ টাকা; পূর্বাচল, বসুন্ধরা (ব্লক কে-পি) ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় ৩ লাখ টাকা; সেগুনবাগিচা, বিজয়নগর, ইস্কাটন, গ্রিন রোড, এলিফ্যান্ট রোড, ফকিরাপুল, আরামবাগ, মগবাজার, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, শেরেবাংলা নগর, লালমাটিয়া, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা ও চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় কাঠাপ্রতি ৫ লাখ টাকা; সেগুনবাগিচা, বিজয়নগর, কাকরাইল, ইস্কাটন, গ্রিন রোড, এলিফ্যান্ট রোডের কিছু অংশে আড়াই লাখ টাকা; উত্তরা (সেক্টর ১০-১৪), নিকুঞ্জ, বাড্ডা (কিছু অংশ), গেন্ডারিয়া, শ্যামপুর, টঙ্গী শিল্প এলাকায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা; শ্যামপুর শিল্প এলাকা ও জুরাইনে ১ লাখ টাকা; রাজারবাগের কিছু অংশে দেড় লাখ টাকা; খিলগাঁওয়ে দেড় লাখ টাকা, গোড়ান ও হাজারীবাগ ট্যানারি এলাকায় কাঠাপ্রতি ন্যূনতম ৬০ হাজার টাকা কর দিতে হবে।

এসব এলাকা ছাড়াও রাজউক ও চট্টগ্রাম ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (সিডিএ) অন্যান্য এলাকায় জমি বেচাকেনা হলে চুক্তিমূল্যের ৮ শতাংশ; গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা (রাজউক ও সিডিএ এলাকা ছাড়া) এবং অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও জেলা সদর পৌর এলাকায় চুক্তিমূল্যের ৬ শতাংশ কর দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

দেশের অন্য এলাকায় চুক্তিমূল্যের ২ শতাংশ এবং অন্যান্য পৌরসভা এলাকায় চুক্তিমূল্যের ৪ শতাংশ কর দিতে হবে।