৩ জুন, ভারতের ওড়িশার বালেশ্বর জেলার বাহাঙ্গাবাজার এলাকায় একসঙ্গে দুমড়ে-মুচড়ে যায় দুটি যাত্রীবাহী ও একটি মালবাহী, মোট তিনটি ট্রেনের বেশ কয়েকটি বগি। মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন শত শত মানুষ, রক্তে ভাসে ঘটনাস্থল। ভারতের রেল ইতিহাসে যুক্ত হয় আরেকটি ট্র্যাজেডি। গতকালের শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মর্মান্তিক এ ঘটনায় প্রাণ গেছে প্রায় ৩শ মানুষের। সর্বশেষ এই ভয়াবহতা মনে করিয়ে দিল ভারতের আরও কয়েকটি ট্রেন ট্র্যাজেডির কথা। অতীত থেকে বর্তমানের এসব ঘটনা তুলে ধরেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনে জানা যায়, ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৮১ সালের ৬ জুন। সেদিন বিহারে সেতু পার হওয়ার সময় একটি ট্রেন বাগমতি নদীতে পড়ে যায়। এতে মারা যান ৭৫০ জনেরও বেশি মানুষ। ১৯৯৫ সালের ২০ আগস্ট ফিরোজাবাদের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা কালিন্দী এক্সপ্রেসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় পুরুষোত্তম এক্সপ্রেসের। সরকারি হিসাবে ওই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ৩০৫ জনের। ১৯৯৮ সালের ২৬ নভেম্বর পাঞ্জাবের খান্নায় ফ্রন্টিয়ার গোল্ডেন টেম্পল মেইলের তিনটি লাইনচ্যুত কোচের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় জম্মু তাউই-শিয়ালদহ এক্সপ্রেসের। এতে প্রাণ হারান ২১২ জন। ১৯৯৯ সালের ২ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের গাইসালে ঘটে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। সেদিন স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা অবধ আসাম এক্সপ্রেসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় ব্রহ্মপুত্র মেইলের। এতে ২৮৫ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান, ২০০২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিহারের রাফিগঞ্জে ঘটে ভয়াবহ আরেক দুর্ঘটনা। এতে ১৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। ২০১৬ সালে কানপুুরে ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যান ১৫২ জন, আহত হন অন্তত ২৬০ জন যাত্রী।