বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের আবেদনের ওপর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ১৪ আগস্ট ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত।
সোমবার এ-সংক্রান্ত আবেদনের ওপর শুনানির জন্য উপস্থাপন করলে চেম্বার আদালতের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এ তারিখ ধার্য করেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদ। আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি মোমতাজ উদ্দিন ফকির, সম্পাদক আব্দুন নূর দুলাল এবং বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন, সাবেক সম্পাদক এম. মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ বিপুলসংখ্যক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
জনাকীর্ণ আাদলতে বেলা আড়াইটার দিকে বিচারপতি এজলাসে বসে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যারা চেম্বার আদালতে শুনানি করার তালিকাভূক্ত নন তারা যেন বাইরে চলে যান। এ জন্য পাঁচ মিনিট সময় দিয়ে বিচারক তার খাস কামরায় যান। একটু পর আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে অন্যান্য মামলার কার্যক্রম চলাকালে আইনজীবীদের নিজেদের মধ্যে কথোপকথন নিয়ে বেশ কয়েকবার উস্মা প্রকাশ করে চেম্বার আদালত।
আবেদনটি উপস্থাপন করে অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ বলেন, ‘প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে। খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা চাইছি পিটিশনটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হোক।’
বিচারপতি এসময় বলেন, ‘প্রতিদিন আদালত নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেন। রাজনীতিবিদেরা অনেক কিছু বলেন। রায় পক্ষে গেলে ভাল, বিপক্ষে গেলেই ফরমায়েশি। এখন সব বিষয়ে কি আদালত সমাধান দিতে পারে?’
মহসিন রশিদ বলেন, ‘এটি আদালত অবমাননার বিষয়’।
আদালত তার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনি তো একজন বয়োজ্যেষ্ঠ আইনজীবী। একটি রায়কে কেন্দ্র করে একজন প্রধান বিচারপতির কুশপুতুল পোড়ানো হয়েছিল। কিন্তু কারও প্রতিক্রিয়া কি ছিল? তাই কে কোনটা নিয়ে আসবে সেটা বোঝাও মুশকিল।’
গত ২১ জুন সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানে ‘একজন চিফ জাস্টিসকেও নামিয়ে দিয়েছিলাম’ এবং ‘যে সব সুশীলরা আমাদের বুদ্ধি দিতে যাবেন, তাদের আমরা বস্তায় ভরে বুড়িগঙ্গা নদীর কালো পানিতে ছেড়ে দেব’- ব্যারিস্টার তাপসের এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহ আহমেদ বাদল।
তিনি গত মার্চে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) নির্বাচনের বিরোধীতা করে গঠিত সুপ্রিম কোর্ট বারের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব। কমিটির আহ্বায়ক মহসিন রশিদ।