দীর্ঘদিনের অসুস্থতা নিয়ে চিরবিদায় নিলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সাংসদ ডা. আফছারুল আমীন। ওই আসন থেকে নৌকা নিয়ে তিন দফা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর পর বিকল্প হিসেবে আসনটিতে উপনির্বাচনে নৌকার মাঝি হয়ে কে আসছেন তা নিয়ে শুরু হয়ে গেছে জল্পনা-কল্পনা। চলছে নানা হিসাব- নিকাশ।
আফছারুল আমীনের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তার আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কেউ কেউ দলের প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ সতর্কতার সঙ্গে এগুচ্ছেন। তবে অধিকাংশের ধারণা খুব শিগগিরই এ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং উপনির্বাচনে যিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন পরবর্তী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও তার মনোনয়ন নিশ্চিত থাকবে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থাও সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে খবরাখবর নেওয়া শুরু করেছেন।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে এই আসন থেকে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম শোনা গেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও চট্টগ্রামে ১৪ দলের সমন্বয়ক খোরশেদ আলম সুজন, যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক, যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ, চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের সংগঠক এম এ আজিজের ছেলে সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার ও প্রয়াত ডা. আফছারুল আমীনের ছোট ভাই এরশাদুল আমীন। সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রাখছেন কেউ কেউ। তবে, এদের অধিকাংশই এখন পর্যন্ত নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ২৪, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর-ষোলশহর) আসন। গত তিনটি সংসদ নির্বাচনে (২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮) এ আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ডা. আফছারুল আমীন।
উপনির্বাচনে প্রার্থিতার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা এখনো আফছার ভাইয়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারিনি। কারা প্রার্থী হতে আগ্রহী, দল কী ভাবছে এসব বলার এখনো সময় আসেনি। আরও কিছুদিন যাক, তারপর বলব।
নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও চট্টগ্রামে ১৪ দলের সমন্বয়ক খোরশেদ আলম সুজন এ প্রসঙ্গে বলেন, চট্টগ্রাম-১০ আসনে এখনো উপনির্বাচনের ঘোষণা আসেনি। হয়তো খুব শিগগিরই আসবে। আর উপনির্বাচনের পর খুব কম সময়ের মধ্যেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আওয়ামী লীগ বড় দল হিসেবে অনেকেই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারে। তবে, দলের নীতিনির্ধারকরা সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত দেবেন। নিজে মনোনয়ন চাইবেন কি না জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কিছু না জানিয়ে বলেন, দল যেভাবে চাইবে সেভাবেই হবে। তিনি বলেন, দল আমাকে কিছুদিনের জন্য সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে আমি নগরবাসীর সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এখন ১৪ দলের সমন্বয়কের দায়িত্ব দিয়েছে, আমি আবারও চট্টগ্রামে ১৪ দলকে জাগিয়ে তুলেছি। সামনেও দল যে কোনো দায়িত্ব দিলে আমি দলের একজন কর্মী হিসেবে তা পালন করতে অবশ্যই সচেষ্ট থাকব।
ইতিপূর্বে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়া ব্যবসায়ী মনজুর আলমের নামও আলোচনায় আসছে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন করব কি করব না এ বিষয়ে এখনো কিছু চিন্তা করিনি। তাছাড়া এ বিষয় নিয়ে আজ পর্যন্ত কারও সঙ্গে আমার কোনো কথাও হয়নি। তারপরও সময় হলে দেখা যাবে কী হয়।
তবে, চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপনির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা মাঠের কর্মী, দলের সুখে-দুঃখে সবসময় মাঠে ছিলাম, আছি। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমাদের প্রত্যাশা থাকবে। দল যদি সুযোগ দেয় নির্বাচন করব। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত যেভাবে হবে সেভাবেই কাজ করব।