এসির বাতাসের খোঁজে শপিং মলে

প্রচণ্ড তাপে পুড়ছে রাজধানীসহ সারাদেশ। একের পর এক রেকর্ড গড়ছে তাপমাত্রা। গত মে মাসের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই গরম বাড়ছে প্রতিদিন। ফলে জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষগুলো পড়ছেন চরম দুর্ভোগে। তবে এর মধ্যেই অনেক তরুণ-তরুণীকে দেখা যাচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিং মলে। গরম থেকে রক্ষা পেতে এসির বাতাসে সাময়িক আশ্রয় নিচ্ছেন তারা।

রাজধানীর পান্থপথ এলাকার একটি শপিং মলে কথা হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহর সাথে। একটা চাকরির ইন্টারভিউ দিতে কারওয়ানবাজার এসেছিলেন তিনি। কথা বলার সময় তীব্র গরমে ঘামছিলেন তিনি। জানান, গরম থেকে রক্ষা পেতে মাত্রই ওই শপিং মলে আশ্রয় নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে তীব্র গরম চলছে। কাজ শেষে কিছুটা পথ হেঁটে আসার কারণ বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে।’

শপিং মলে আসার বুদ্ধি কিভাবে পেলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথম বর্ষে পড়াশোনার সময় বন্ধুরা মিলে এই বুদ্ধি বের করি। শপিং মলগুলোতে সহজে ঢোকা যায় এবং কেনাকাটা না করেও ঘুরে বেড়ানো যায়।’

একই শপিং মলে কথা হয় কাঁঠালবাগান এলাকার প্লাবন সরকারের সাথে। তিনি বলেন, ‘দুপুরের পর থেকে বাসায় বিদ্যুৎ নেই। বাসা থেকে বের হয়ে এক বন্ধুকে নিয়ে হাতিরঝিলে গিয়েছি শীতল বাতাসের খোঁজে। সেখান থেকে বাসায় ফেরার পথে শপিং মলে ঢুকি এসির বাতাসের জন্য।’

তবে কেবল আব্দুল্লাহ বা প্লাবনই নয়, তাদের মতো আরও কিছু তরুণ-তরুণীর খোঁজ মেলে ধানমণ্ডি, এলিফ্যান্ট রোড, বাংলামোটরসহ বিভিন্ন এলাকায়।

এলিফ্যান্ট রোডের একটি শপিং মলে কথা হয় তানহার সাথে। তিনি জানান, বন্ধুর সাথে দেখা করতে বাসা থেকে বের হন। দুপুরের তপ্ত রোদে কোথায় যাবেন সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে শপিং মলে ঢুকেছেন। বিভিন্ন ফ্লোরে কসমেটিকস ও কাপড়ের দোকানে গেলেও তারা কিছু কেনেননি। কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে তারা বাসায় ফিরে যাবেন বলে জানান।

এদিকে তীব্র গরমে রাজধানীতে বেড়েছে লোডশেডিং। ফলে ভোগান্তি বেড়েছে সাধারণ মানুষের। বিদ্যুতের সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। বিভিন্ন এলাকায় এক বা একাধিক বার করে লোডশেডিং হচ্ছে। দেশব্যাপী চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে আজ বুধবার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রম একদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে মাউশি। এর আগে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়।