কয়লার অভাবে দেশের অন্যতম পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মধ্যে ৬৬০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার একটি ইউনিট গত ২৫ মে বন্ধ হয়ে যায়। সোমবার (৫ জুন) থেকে আরেকটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। দুটি ইউনিটে মোট ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ উৎপন্ন হত। আগামী ২০-২৫ দিন এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে।
এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বেড়েছে লোডশেডিং। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে জনজীবন। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনারও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বিরাজমান অতিরিক্ত গরমে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, যার জন্য প্রাথমিক স্কুল কয়েক দিন ও মাধ্যমিক স্কুল একদিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। লোডশেডিংয়ের জন্য তারা বাসায়ও পড়তে পারছে না।
এরই মধ্যে লোডশেডিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এ নিয়ে পিছিয়ে নেই দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলও।
রবিবার (৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় লোডশেডিং নিয়ে নিজেদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ওই পোস্টে তারা লেখে, ‘হারিকেন নিজেও ভাবেনি এই শতভাগ বিদ্যুতের যুগে সে আবার তার ভরা যৌবন ফিরে পাবে!’
ওই দিন রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ নিজেদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও। ‘বিএনপির করা পোস্টের জবাব দিয়ে তারা লেখে, ‘হারিকেনের আলোতেই নিজেদের হারানো যৌবন ফিরে পেলো বিএনপি। কারণ, এই হারিকেনের আলোতেই কেটে গেছে তাদের ৫ টি বছর।’
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিদিন গড় বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ থেকে সাড়ে ১৩ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে গড়ে প্রতিদিন ১২ থেকে সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। তবে কখনো কখনো দৈনিক চাহিদার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎও উৎপাদন হয়। যেমন এ বছরের ২৯ এপ্রিল সাড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল। সেদিন দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১১ হাজার ৫৫৫ মেগাওয়াট।