৪ বছর পর ‘মর্ত্যরে অরসিক’

দীর্ঘ চার বছর পর আজ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হবে নাটকের দল ‘বঙ্গলোক’-এর ২য় প্রযোজনা ‘মর্ত্যরে অরসিক’। দলের অন্যতম সদস্য শামীমা শওকত লাভলীর রচনা ও নির্দেশনায় নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রবিন বসাক, তানভীন হোসেন সামদানী, শাহরান খান, মো. রাসেন রানা দোজা, স্নেহা, শিমূল মিস্ত্রি, জেসান এবং নির্দেশক। দেশজ নাট্যধারায় নির্মিত এই  নাটকের গল্পে দেখা যায়, আপসহীন গোকুলনাথ অনেক কষ্টে একটা চাকরি জোগাড় করতে পারলেও সত্যে অনড় থাকার কারণে চাকরিটা হারাতে হয়। জীবন সংগ্রামে গোকুল যখন হতাশাগ্রস্ত, তখন রবিঠাকুরের কাছ থেকে স্বর্গে যাওয়ার প্রস্তাব পায়। শর্ত থাকে এই, স্বর্গের সব তথ্য সে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জোগাড় করে আনবে, যার ভিত্তিতে তিনি লেখা তৈরি করবেন। মেঘের পালকিতে চড়ে গোকুলনাথা স্বর্গে পৌঁছায়। স্বর্গের রূপ দেখে বিমোহিত হয়ে পড়লেও সেখানকার অনিয়ম, দেবতাদের স্বেচ্ছাচারী মেনে নিতে পারে না। স্বর্গের আরাম-আয়েশে গা ভাসিয়ে না দিয়ে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সে উপলব্ধি করে যুগ যুগ ধরে স্বর্গ সম্পর্কে আমরা যা শুনে আসছি তা একই স্থানে স্থির হয়ে আছে। সে আরও বুঝতে পারে, পৃথিবী প্রতি মুহূর্তে বদলাচ্ছে, যার চাবিকাঠি মানুষের হাতে। তাই সে সিদ্ধান্ত নেয় পৃথিবীতেই সে ফিরে আসবে এবং পৃথিবীর রূপকারদের সঙ্গে যোগ দেবে। নাট্যকার ও নির্দেশক লাভলী বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অরসিকের স্বর্গপ্রাপ্তি ব্যঙ্গকৌতুকটিকে নাট্যরূপ দিয়ে সমসাময়িক করার চেষ্টা করেছি। দীর্ঘ চার বছর পর নাটকটি আবার আমরা মঞ্চে আনছি। আমাদের একজন মূল অভিনেতা রাজীব রাজের মৃত্যুর কারণে মঞ্চ অভিনয়ে ছেদ পড়েছিল। ১৮তম প্রদর্শনীটি রাজের নামে উৎসর্গ করার মাধ্যমে শুরু করব। আসা করছি দর্শকের ভালো সাড়া পাব।’