আজ ৮ জুন বিশ্ব ব্রেন টিউমার দিবস। মস্তিষ্কের কোনো অংশে অস্বাভাবিক পি- অথবা কোষের জমাট বাঁধাকে ব্রেন টিউমার বলা হয়। মানব মস্তিষ্ক মাথার খুলির ভেতরে একটি নির্দিষ্ট আকৃতির মধ্যে সুরক্ষিত থাকে। অস্বাভাবিক কোনো পিন্ড বা জমাটবদ্ধ কোষ (টিউমার) বেড়ে গেলে তা মস্তিষ্কের ওপর চাপ তৈরি করে, মস্তিষ্কের কার্যক্রমে ব্যাঘ্যাত ঘটায়। সঠিক চিকিৎসা না হলে এর ফলে রোগী মৃত্যুবরণ করতে পারে। প্রতি বছর ৮ জুন বিশ্ব ব্রেন টিউমার দিবস পালিত হয়ে আসছে।
ব্রেন টিউমার মূলত দুই প্রকার
প্রাইমারি ব্রেন টিউমার
যে ব্রেন টিউমার সরাসরি মস্তিষ্ক থেকে উৎপন্ন হয় তাকে প্রাইমারি ব্রেন টিউমার বলে। যেসব স্থানে এ ধরনের টিউমার হতে পারে তা হলো : মস্তিষ্কের কোষ, মস্তিষ্কের আবরণী পর্দা, স্নায়ুকোষ ও গ্রন্থি।
সেকেন্ডারি ব্রেন টিউমার
যে ব্রেন টিউমার শরীরের অন্য স্থান থেকে উৎপন্ন হয়ে মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটে তাকে সেকেন্ডারি ব্রেন টিউমার বলা হয়। মূলত অন্য স্থানের ক্যানসার মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়লে এ ধরনের ব্রেন টিউমার হয়। যেসব ক্যানসার থেকে এ ধরনের ব্রেন টিউমার হয় তা হলো ফুসফুসের ক্যানসার, ব্রেস্ট ক্যানসার, কিডনির ক্যানসার, ত্বকের ক্যানসার। বেশির ভাগ ব্রেন টিউমার মূলত সেকেন্ডারি ব্রেন টিউমার।
লক্ষণ
টিউমার সরাসরি মস্তিষ্কের ক্ষতি করে, আর কিছু মস্তিষ্কের ওপর চাপ তৈরি করে মস্তিষ্কের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়। ব্রেন টিউমারজনিত মাথাব্যথার কিছু বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ
মাথাব্যথা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর সবচেয়ে তীব্র থাকে।
ঘুমের মধ্যে মাথাব্যথা শুরু হয়। মাথাব্যথার ফলে ঘুম
ভেঙে যায়।
হাঁচি, কাশি ও ব্যায়ামের সময় মাথাব্যথা অনুভূত হয়।
সার্জারি
নিউরোসার্জারির মাধ্যমে সম্পূর্ণ টিউমার, কিংবা টিউমারের কিছু অংশ অপসারণ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই টিউমার মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং আকার বেড়ে যাওয়ার ফলে মাথার খুলির ওপর চাপ ফেলে। এ অবস্থায় আংশিক অপসারণের ফলে মারাত্মক ক্ষতি এড়ানো যায়। তবে কিছু টিউমার আছে, যা মস্তিষ্কের মধ্যে এমনভাবে বিস্তারিত হয়ে যায়, যার ফলে তা সার্জারির মাধ্যমে অপসারণ করা সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে টিউমারের ধরন ও আকারের ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য চিকিৎসা করা হয়।
রেডিয়েশন
রেডিয়েশন থেরাপি নিয়মিত নিতে হয় যতদিন টিউমার নিশ্চিহ্ন না হয়, অথবা আকৃতিতে যথেষ্ট পরিমাণ না কমে যায়। অনেক সময় সার্জারিতে সম্পূর্ণ টিউমার অপসারণ করা যায় না। তাই সার্জারির পরে বাকি অংশ অপসারণের অথবা ধ্বংস করার জন্য রেডিওথেরাপি ব্যবহার করা হয়।
কেমোথেরাপি
ওষুধ ব্যবহার করে ব্রেন টিউমারের যে চিকিৎসা করা হয় তা কেমোথেরাপি নামে পরিচিত। এই ওষুধগুলো রক্তনালির মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে টিউমার কোষ ধ্বংস করতে সাহায্য করে। আমাদের মস্তিষ্কে যেকোনো ওষুধ পৌঁছনোর জন্য রক্ত ও মস্তিষ্কের মধ্যে একটি বাধা, যা Blood Brain Barrier নামে পরিচিত তা অতিক্রম করতে হয়। ব্রেন টিউমার চিকিৎসায় এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এগুলো ট্যাবলেট, ক্যাপসুল অথবা ইনজেকশন হতে পারে।