শ্মশ্রুমণ্ডিত মুখ আর দীর্ঘকেশী অবয়ব ছিল সিরাজুল আলম খান দাদাভাইয়ের। ফলে দেখতে যেন খানিকটা কার্ল মার্কস বা গ্রিগোরি রাসপুটিনের মতোই ছিলেন। এমনিতে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। নেপথ্যেই চলেছেন পথ। খ্যাতি ছড়িয়েছে তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে। একপর্যায়ে পরিণত হন মিথে।
১৯৬২ সালে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমেদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ বা নিউক্লিয়াস। সে সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অনন্য এই সংগঠক মুজিব বাহিনীর অন্যতম প্রধান ছিলেন।
সিরাজুল আলম খান তার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে কখনও সরব ছিলেন না। তিনি জনসম্মুখে আসতেন না, এমনকি বক্তৃতা-বিবৃতিও দিতেন না। সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে শুধু এ দেশের রাজনৈতিক মহলেই নয়, অনুসন্ধিৎসু মানুষের তাকে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য প্রশ্ন ও তীব্র কৌতূহল।
১৯৮১ সালে তৎকালীন সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের শাসনামলে কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর রাজনীতির বাইরে থেকেও তিনি বরাবর রাজনীতিতে আলোচিত হয়েছেন। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর সে সময়ের রাজনীতি নিয়ে তার মূল্যায়ন অনেকেই জানতে উদগ্রীব ছিলেন।
জাসদ গঠন করার পর বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, অনেকেই মনে করেন তার এ আন্দোলন বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করে দিয়েছিল। ১৯৭১-৭৫ কালপর্বে তার ভূমিকা কি ছিল সেটা অকপটে জাতির সামনে তুলে ধরবেন এ আশাও ছিল অনেকের। কিন্ত তিনি বরাবরই চুপ থেকেছেন। এভাবে রাজনীতির রহস্য পুরুষ অভিধায় ভূষিত হন তিনি।
৭ নভেম্বরের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর জাসদের উপর স্টিম রোলার চালান জিয়াউর রহমান। তার শাসনামলে জাসদের হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হন। বাদ ছিলেন না সিরাজুল আলম খানও। তিনি জেলে থাকা অবস্থাতেই জাসদ ভেঙে গড়ে ওঠে বাসদ। জিয়ার উদ্দেশ্য সফল হয়। তারপর জাসদের ইতিহাস হল ক্রমশ নিঃশেষ থেকে নিঃশেষিত হওয়ার।
অথচ কেন জাসদ ভাঙল,কেন অভ্যুত্থান ব্যর্থ হল কিংবা শুরুর দিকে জিয়াউর রহমানের সাথে তাদের কি আলোচনা ছিল সেসব নিয়ে রহস্য রেখেই অন্যভুবনে পাড়ি জমালেন সিরাজুল আলম খান।