বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক রহস্যমানব তিনি। রহস্যময় জীবনযাপন তাকে রহস্য মানবে পরিণত করেছে। সাধারণ মানুষ ও রাজনীতিবিদদের কাছে তিনি অনেকটাই অজানা,অনাবিষ্কৃত।
যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে গড়ে তুলেছিলেন,সেই বঙ্গবন্ধুর সাথে তার দূরত্ব কিংবা জাতির পিতা স্ব-পরিবারে নিহত হওয়ার আগে কিংবা এর পরবর্তী সময়ে তার ভূমিকা নিয়ে খুব একটা জানা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক ও গবেষকেরা তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলেও তিনি নির্লিপ্ত থেকেছেন। মৌনতা বজায় রেখে এড়িয়ে গেছেন সব প্রশ্ন। অথচ ঘটনাবহুল ৭৫ এর নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি দায় এড়াতে পারেন না।
জাসদ গঠন করে বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে তার বিভিন্ন কর্মসূচি নানা প্রশ্ন তৈরি করে। ঠিক যেমন প্রশ্ন উঠে ৭২-৭৫ সময়ে জাসদের অনেক নেতাকর্মীকে জেলে পাঠানো হলেও, একদিনের জন্যও কেন জেলে যেতে হয়নি সিরাজুল আলম খানকে। যা ইঙ্গিত দেয়, হয়তোবা বঙ্গবন্ধু তাকে স্নেহ করতেন বলেই, তিনি গ্রেপ্তার এড়িয়ে থাকতে পেরেছিলেন।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হঠাৎ করে তিনি তাঁর ভাব শিষ্য শামসুদ্দিন পেয়ারার অনুলিখনে 'আমি সিরাজুল আলম খান' শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেছিলেন। রাজনীতিবিদ লেখক ও গবেষকদের ধারণা ছিল হয়তো নানা অজানা প্রশ্নের জবাব থাকবে বইটিতে। ১৯৭১-৭৫ কাল পর্বে তার ভূমিকা কি ছিল,থাকবে সেসব প্রশ্নের উত্তর। কিন্ত ঘটেছে তার উল্টো।
বইটিতে অত্যন্ত সুকৌশলে তিনি তার ভূমিকা এড়িয়ে গেছেন। মাত্র কয়েক পাতায় এ কালপর্ব সম্পর্কে তিনি যা বলেছেন, তাতে নতুন কিছু নেই। ইতিমধ্যে যে বিষয়গুলো আমরা জানি, সেগুলোই খুব দায়সারাভাবে, কয়েক পাতায় তিনি এখানে উল্লেখ করেছেন। এতে একটা বিষয় স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেপথ্যে থেকে তিনি যে কলকাঠি নেড়েছেন, সেটা তিনি জাতির সামনে বলে যেতে চান না।
অথচ সে সময়ের পত্র পত্রিকা ও বিভিন্ন বই পড়ে জানা যায়, ১৯৭২ সালের অক্টোবরে শেখ ফজলুল হক মনি ও মোস্তফা মহসিন মন্টুকে দায়িত্ব দিয়ে যুবলীগ গঠন করেন ১৯৭২ সালের ১১ই নভেম্বব গঠন করা হয়। অন্যদিকে জাসদ গঠন হয় ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর।
৭২-৭৫ এর পুরোটা সময় জুড়ে জাসদের ভূমিকা বঙ্গবন্ধু সরকারকে বিব্রত করে। এ সময়ে জাসদের নানা পর্যায়ের কর্মীরা জেলে গেলেও, রহস্যজনকভাবে একদিনের জন্যও জেলে যেতে হয়নি দাদা ভাই সিরাজুল আলম খানকে।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে দাবী করে আসছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল জাসদ। সে সময়ের ঘটনাবলীর দিকে ঞ্জর দিলে এ দাবীকে মোটেই অমূলক বলা যায় না।