স্ত্রীকে খুন করে লাশে আগুন দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা

রাজধানীর রামপুরা হাজীপাড়ায় নিনা খান (৪৩) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার পর গায়ে আগুন দিয়ে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্বামী গিয়াস উদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার রাতে নিনা খানকে আহত অবস্থায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তার মাথায় ও মুখে আঘাতের চিহ্ন দেখে থানায় খবর দেওয়া হয়।

পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে। নিহত নিনা খান মেটলাইফ আলিকো ইন্স্যুরেন্সের কর্মকর্তা। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর পলাশ উপজেলার বিরিন্দা গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত সিরাজ উল্লাহ খান।

স্বজনদের অভিযোগ, নিনাকে তার স্বামী হত্যা করেছে। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ঝামেলা চলছিল। নিহত নিনার বোন রেবেকা আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিনার স্বামী মাস ছয়েক আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। নিনার কাছে টাকা চাইত সে। না দিলে মাঝেমধ্যেই মারধর করত। নিনা বেশ কয়েকবার তাকে ডিভোর্স দেবে বলে আমাকে জানিয়েছে। কিন্তু সামাজিকভাবে হেয় হবে ভেবে আর ডিভোর্স দেয়নি।’

রামপুরা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, নিনা খান স্বামী গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে রামপুরা হাজীপাড়ার বিসমিল্লাহ টাওয়ারের ষষ্ঠতলায় থাকতেন। বৃহস্পতিবার রাতে সেখান থেকে মৃত অবস্থায় নিনাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। ইনস্টিটিউটের স্টাফদের সন্দেহ হলে তারা থানায় খবর দেন। পরে বার্ন ইনস্টিটিউটে গিয়ে নিনা খানের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। গিয়াসকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ওই নারীর মাথায় ও মুখে কাটা আঘাতের চিহ্ন আছে। শরীরে দগ্ধও আছে। ঘটনাটি কী ঘটেছিল তা জানার চেষ্টা চলছে।

ঢামেক হাসপাতালের মর্গে নিনার ভাগনি লিরা খান দেশ রূপান্তরকে জানান, নিনা ও তার স্বামী মগবাজার মেটলাইফ আলিকো ইন্স্যুরেন্সে কাজ করেন। নিনা ওই ইন্স্যুরেন্সের ইউনিট ম্যানেজার ছিলেন। গত ১১ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তবে তাদের কোনো সন্তান নেই। তিনি আরও জানান, স্বামী গিয়াস নিনার ভাগিনা ফাইরোজ বিন সোয়েবকে ফোনে জানান, নিনা রান্নাঘরে গ্যাসের চুলার আগুনে দগ্ধ হয়েছেন। তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

পরে তারা ইনস্টিটিউটে গিয়ে নিনার মৃতদেহ দেখতে পান। তার মাথার কয়েক জায়গায় কাটা দাগ আর মুখ ও শরীরের কিছু অংশ আগুনে ঝলসানো।

লিরা খান জানান, বিয়ের পরপরই নিনার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ও ১৮ ভরি স্বর্ণ নিজের কাছে নিয়ে নেন স্বামী গিয়াস উদ্দিন। এরপরও বিভিন্ন সময় ঋণ শোধ করার কথা বলে গিয়াস তার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়। নিনাকে খুনের পর আলামত নষ্ট করতে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। নিনার হত্যাকারীর কঠিন সাজা দাবি করেছেন তারা।