রাজধানীর কামরাঙ্গীচরের খোলামুড়া এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদী থেকে এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম ইয়াসিন মাহমুদ মাহিম (১৫)। সে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গতকাল শনিবার সকালে স্বজনরা নদীতে মাহিমের লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে নৌ পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। পরিবারের দাবি মাহিমকে হত্যা করা হয়েছে।
স্বজনরা জানিয়েছেন, মাহিম গত শুক্রবার বাসা থেকে চুল কাটানোর কথা বলে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিল। মাহিম তার মায়ের একমাত্র সন্তান। তার বাবা মাসুদুর রহমানের সঙ্গে মায়ের দশ বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। এরপর থেকে মায়ের সঙ্গে কামরাঙ্গীরচরের বাগানবাড়ির নয়াগাঁও এলাকায় থাকত। মা সাবিনা ইয়াসমিন স্থানীয় একটি স্কুলের সহকারী শিক্ষক।
খালু রেজাউল করিম সোহাগ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাহিম শুক্রবার বেল ১১টার দিকে বাসা থেকে চুল কাটানোর কথা বলে বের হয়। এ সময় তার মোবাইল ফোনটি বাসায় রেখে যায়। দীর্ঘ সময় বাসায় না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। পরে মাহিমের মোবাইল ফোনের মেসেঞ্জারের বার্তা চেক করে দেখা গেছে, সামির নামে তার এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। সামিরের দাদির মিলাদে যাওয়ার জন্য মাহিম তার মাকেও জানিয়েছিল। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে সে যায়নি। পরে সামিরের বাসায় গেলে সে প্রথমে দেখা করার বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে ফোনের মেসেজ দেখালে সে বলে শুক্রবার দুইটা পর্যন্ত তার সঙ্গেই ছিল মাহিম। পরে অন্য এক বন্ধুর সঙ্গে চলে গেছে।’
সোহাগ আরও বলেন, ‘শুক্রবার থেকে সম্ভাব্য সব জায়গাতে খোঁজ করেছি। আজ (গতকাল শনিবার) ভোরে খোলামুড়া ঘাট এলাকায় গেলে এক পথচারীর মাধ্যমে নদীতে লাশ ভেসে থাকার খবর পাই। পরে গিয়ে মাহিমের লাশ ভাসতে দেখি। তার শরীর ও মুখে অনেক কাদা লাগানো।’
নৌ পুলিশের বসিলা ফাঁড়ির পরিদর্শক অনিমেষ হালদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সকালে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মাহিম নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে শরীরে কাদা লাগানো ছিল। ময়নাতদন্তেরর জন্য মরদেহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’