'পুলিশ ইচ্ছা করলেই সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারে না'

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, সবারই ধারণা ট্রাফিক পুলিশ ইচ্ছা করলেই যানজট নিরসোন থেকে শুরু করে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সমস্ত কাজ করতে পারে, কিন্তু এটা সম্ভব না।

আজ রবিবার সকালে ডিএমপি সদরদপ্তরে ঢাকা রোড ট্রাফিক সেফটি প্রজেক্টের (ডিআরএসপি) পোস্টার এবং স্লোগান প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, আমরা ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করছি না। এক মিনিট সময় বাচাতে জীবনটাকে ঝুকিতে ফেলছি। অনেকে হাত দিয়ে সিগনাল দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছি। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনায় আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মারা যাচ্ছে অনেকে পঙ্গু হচ্ছে। এই ছাত্র ছাত্রীদের দিয়েই অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দোষ দেই গাড়ির ড্রাইভারকে। তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসি। অনেক সময় ড্রাইভারদের দোষ থাকে। বিশেষ করে যারা কমার্সিয়াল ড্রাইভার তাদের অধিকাংশ রোড সেফটি সম্পর্কে জ্ঞান খুবই কম। যেখানে হর্ন বাজানো নিষেধ সেখানে ড্রাইভারেরা আরও জোরে জোরে হর্ন বাজাচ্ছে। স্কুল কলেজ হাসপাতালের সামনে গিয়ে জোরে জোরে হর্ন বাজাচ্ছে।

কমিশনার বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) আমাদের সাথে কাজ করছে। আজকের প্রতিযোগিতায় রোড সেফটির উপর ছাত্র-ছাত্রীরা সুন্দর সুন্দর শ্লোগান লিখেছে এবং প্রত্যেকের আইডিয়া সুন্দর ছিল। আমদের ইচ্ছা ছিল সবাইকেই প্রথম পুরষ্কার দেওয়ার। কিন্তু দেওয়ার সুযোগ না থাকায় পুরষ্কার দিতে পারেনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাইকা-বাংলাদেশের মুখ্য প্রতিনিধি ইচিগুচি তোমোহিদে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান।

পোস্টার এবং স্লোগান প্রতিযোগিতার লক্ষ্য জাপানের অনুশীলনকে অন্তর্ভুক্ত করে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল সড়ক ব্যবহারকারী এবং নিরাপত্তা দূত হিসেবে তাদের তৈরি করা। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্ররা পোস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। ১৭০টি পোস্টার জমা দেওয়া হয়েছিল, সেইসাথে কলেজের ছাত্ররা স্লোগান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল এবং ৪১০টি স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছিল।
ডিএমপি, জাইকা, জেট্রো (জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন), জেসিআইএডি (ঢাকায় জাপানিজ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন) এবং ডিআরএসপি ১০০জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতিতে ১০টি পোস্টার এবং ১০টি স্লোগানের জন্য পুরস্কার ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ২০২২ সালের মার্চ মাস থেকে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সঙ্গে ঢাকা রোড ট্রাফিক সেফটি প্রজেক্ট (ডিআরএসপি) বাস্তবায়ন করছে। ডিআরএসপি হল তিন বছরের জন্য একটি প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রকল্প যার লক্ষ্য ঢাকা মহানগরিতে ব্যাপক ট্রাফিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে ডিএমপির সক্ষমতা জোরদার করা।