কেন্দ্রে ভোটার আনতে মরিয়া প্রার্থীরা

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনা নিয়েই তৎপর প্রার্থীরা। প্রার্থীরা নিজ নিজ পক্ষে তো ভোট চাইছেনই, সঙ্গে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন। মেয়র, কাউন্সিলর সব প্রাথীই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির বিষয়ে। মূলত বিএনপির কোনো প্রার্থী নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ভোটার উপস্থিতি নিয়ে সংশয়ে আছেন তারা।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন ছাড়াও সাধারণ ৩০টি কাউন্সিলর পদে ১১২ জন এবং সংরক্ষিত ১০টি আসনের বিপরীতে ৪৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন। নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির কোনো নেতা অংশ নেননি। ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে বিএনপির ১৬ জন নেতা অংশ নিলেও তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।  আগে থেকেই ভোটার উপস্থিতি নিয়ে একধরনের সংশয় ছিলই। এর ওপর বিএনপির এই কঠোর অবস্থানের পর এই সংশয় আরও প্রকট হয়েছে। এ কারণে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি প্রার্থীরা ভোটার উপস্থিতির ওপর বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কাউন্সিলর থেকে শুরু করে মেয়র পর্যন্ত সবার পক্ষ থেকেই ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

রাজশাহীতে মেয়র পদে যে চারজন প্রার্থী রয়েছেন তার মধ্যে আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটনের মাঠ শুরু থেকেই ভালো। নগরবাসীর মধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়ে আছে লিটনকে বিজয়ী হতে তেমন কোনো বেগ পেতে হবে না। এরপরও লিটনের প্রচারণায় কোনো ঘাটতি নেই। পোস্টারিং, মাইকিং, মতবিনিময়, গণসংযোগ সবকিছুই ব্যাপকভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন লিটন এবং তার অনুসারীরা। আওয়ামী লীগ নেতারা পুরো নগরীতে নিয়মিতভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। লিটনসহ আওয়ামী লীগের নেতারা নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারবেন বলে আশ্বস্ত করে সকাল সকাল কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি অনুরোধ রাখছেন। কাউন্সিলর প্রার্থীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের অনুরোধ করছেন কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য।

গতকাল রবিবার সকালে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট বনগ্রামে প্রচার চালাচ্ছিলেন কাউন্সিলর প্রার্থী তৌহিদুল হক সুমন। তিনি এক বাড়িতে গিয়ে বললেন, ‘চাচা, ভোটের দিন বেলা করার দরকার নেই। সকাল সকাল কেন্দ্রে যেতে হবে। আগে আগেই গিয়ে ভোট দিতে হবে।’ রাস্তায় আরেক ভোটারকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘খালা, আপনাদের ভালোবাসায় কাউন্সিলর হয়ে সাড়ে চার বছর আপনাদের পাশেই আছি। এবারও দোয়া চাই, ভোট চাই। সব থেকে বড় দাবি, সকাল সকাল গিয়ে ভোটটা দিয়ে আসবেন।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মেয়রপতœী শাহীন আকতার রেণী বলেন, ‘অনেকেই বলছেন, আমাদের প্রার্থীর বিপক্ষে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নাই। কিন্তু আমরা সেই কথা শুনে বসে থাকতে চাই না। নির্বাচনকে আমরা গুরুত্ব দিয়েই দেখছি। কেনো প্রার্থীকেই আমরা ছোট করে দেখছি না। আমরা নগরীতে একটি উৎসবের আমেজ করতে চেয়েছি এবং এরই মধ্যে সবখানে দেখছেন এই আমেজ তৈরি হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, মানুষ ভোটকেন্দ্রেও উৎসবের আমেজ নিয়েই যাবেন।’

মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক পিন্টু বলেন, ‘ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা কাজ করছি। মূলত ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে যায়। এবার তাদের সঙ্গে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে যেতে কাজ করবে। আমরা আশা করছি ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ভোটার ভোট দেবেন।’ 

জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বপন বলেন, ভোটের মাঠ এখন পর্যন্ত ভালোই দেখছি। পরিবেশ এ রকম থাকলে আশা করছি ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেন। কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির বিষয়ে আমরা কাজ করছি। এটা আমরা যারা প্রার্থী আছি তাদের সম্মানের ব্যাপার। ভোটারদের যদি কেন্দ্রে নিয়ে যেতে না পারি, তাহলে তো এটা আমাদের ব্যর্থতা।’ নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ জন। ১৫৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে।