বেসামরিকদের বাঁচাতে আত্মসমর্পণ করলেন যিনি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রান্সে গোপন মিশনে গিয়েছিলেন মার্কিন গুপ্তচর পিটার জে অরটিজ। ফ্রান্স তখন নাৎসিদের দখলে। শত্রু শিবিরের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি মিত্র বাহিনীর হয়ে লড়াইয়ের নেতৃত্বে ছিলেন অরটিজ। ওই সময় একটি গোটা গ্রাম রক্ষা করেছিলেন তিনি। কীভাবে? লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

বিমান ভূপাতিত

১৯৪৪ সালের ৬ মে। রাত প্রায় পৌনে ২টা। নাৎসি অধিকৃত ফ্রান্সের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল একটি বিমান। সেটির পাইলট ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট মারি এল সাইমন। ২৩ বছর বয়সী এই সেনা কর্মকর্তা ছিলেন আমেরিকান ইহুদি। বিমান বাহিনীর সাত সদস্যকে নিয়ে তিনি ওই রাতে গোপন মিশনে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ জার্মানির এক যুদ্ধবিমান সাইমনের বিমানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। সঙ্গে সঙ্গে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। সাইমনসহ সবাই এক এক করে প্যারাশুট নিয়ে লাফিয়ে পড়েন। সাইমনের প্যারাশুট একপর্যায়ে গাছে আটকে যায়। বিধ্বস্ত বিমানটিকে তখন জার্মান সেনারা তন্ন তন্ন করে খুঁজছিল। প্যারাশুট নিয়ে সাইমন নেমেছিলেন ফ্রান্সের মধ্যাঞ্চলে। তিনি ফরাসি ভাষা জানেন না। মিশনে যাওয়ার আগে তাকে একটি কাগজে কয়েকটি বাক্য লিখে দেওয়া হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল ফরাসিদের হাতে ধরা পড়লে বাক্যগুলো পড়ে শোনাতে। আর যদি জার্মানরা তাকে ধরে তাহলে তো কথাই নেই। মারধর তো করবেই, মৃত্যুও অবধারিত কারণ নাৎসিরা তাকে গুপ্তচর ছাড়া অন্য কিছু ভাববে না। তাই মরিয়া হয়ে সাইমন ফরাসি প্রতিরোধ বাহিনীর আস্তানা খুঁজতে থাকেন। প্রায় এক সপ্তাহ একে তাকে জিজ্ঞেস করে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ভেলেন্সে পৌঁছান সাইমন। সেখানে ফরাসি প্রতিরোধ যোদ্ধারা তার সঙ্গে ৩০ বছর বয়সী এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার পরিচয় করিয়ে দেন। তার নাম মেজর পিটার জে অরটিজ। তিনি এর আগে মিত্রবাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা যাদের বিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছিল, তাদের সীমান্ত দিয়ে পালাতে সহযোগিতা করেছিলেন। ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান, স্প্যানিশ, রুশ ও আরবি ভাষার ওপর তার দখল অসাধারণ।

উদ্ধারকর্তা

সাইমনের বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার চার মাস আগে গোপন অভিযানে ফ্রান্সে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা মেজর অরটিজ। তিনি একা নন। তার সঙ্গে ছিলেন ব্রিটিশ স্পেশাল অপারেশনস এক্সিকিউটিভের (এসওই) একজন কর্মকর্তা ও ফরাসি আর্মি রেডিও অপারেটর। ১৯৪০ সালের জুনে প্যারিস পতনের পর মিত্রবাহিনীর হয়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরে ফ্রান্সে প্রথম পা রাখা ব্যক্তি ছিলেন ওই তিন জন। অরটিজ সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) আগের প্রতিষ্ঠান অফিস অব স্ট্র্যাটেজিক সার্ভিসেসে (ওএসএস) কর্মরত ছিলেন। ফ্রান্সে তাকে পাঠানো হয় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও ফরাসি প্রতিরোধযুদ্ধকে সংগঠিত করার কাজে। সাইমন ভেলেন্সে পৌঁছার পরপরই তার মাথার দাম পাঁচ লাখ ফরাসি ফ্রাঙ্ক ঘোষণা করেছিল নাৎসিরা। তাই তাকে গোপনে ইংল্যান্ডে পাঠাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় অরটিজকে এবং সময়ও অনেক লাগে। অরটিজের সহায়তায় ফ্রান্স থেকে ইংল্যান্ডে প্রায় এক মাস পর পৌঁছান সাইমন। সেখান থেকে নিউ ইয়র্কে পরিবারের কাছে চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘আমি ভালো আছি। নিরাপদে আছি। চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমার আগের ঠিকানায় চিঠি লিখো।’ ৬ মে রাতে ফ্রান্সে সাইমনের বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর তার মা-বাবার কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তাতে বলা হয়, আপনাদের ছেলে নিখোঁজ। তার সম্পর্কে কোনো তথ্য পেলে দ্রুতই জানানো হবে। স্বাভাবিকভাবেই এক মাস পর সাইমনের চিঠি পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে তার পরিবার।

জেমস বন্ড

১৯৮১ সালে ফুসফুসে ক্যানসারে মারা যান সাইমন। তার একটি স্ক্র্যাপবুক ছিল। তাতে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সময়ের বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত প্রতিবেদন কেটে রাখতেন। এমনই এক পেপারকাটিং ছিল অরটিজকে নিয়ে। প্রতিবেদনটি ছিল ১৯৪৬ সালের। ওই প্রতিবেদন ও তাকে ঘিরে আরও লেখা পড়লে বোঝা যায়, তিনি কেবল সাইমনের নয়, আরও অনেকের কাছে যুদ্ধকালে বীর ছিলেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থায় কাজ করার আগে সার্কাসের পারফরমার, খামার ব্যবস্থাপক ও রেইসকার চালক হিসেবে কাজ করেছিলেন অরটিজ। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা অফিস অব স্ট্র্যাটেজিক সার্ভিসেসে (ওএসএস) তিনি অনেকটাই বাস্তবের জেমস বন্ড ছিলেন যিনি ডেস্কের চেয়ে বাইরে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন বেশি। ১৯১৩ সালে নিউ ইয়র্কে জন্ম হয় তার। বেড়ে ওঠেন ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্রান্সে। ছোটবেলা থেকে অস্থিরচিত্তের মানুষ ছিলেন তিনি। ১৫ বছর বয়সে ফরাসি বোর্ডিং স্কুল ছেড়ে জাহাজের খালাসি হন অরটিজ। তার ওই সিদ্ধান্তে মনঃক্ষুন্ন হন তার মা-বাবা, বিশেষ করে তার বাবা ফিলিপ অরটিজ যিনি ফ্যাশন ম্যাগাজিন প্যারিস ভোগ-এ কর্মরত ছিলেন। তিনি বুঝিয়ে-সুঝিয়ে ছেলেকে ফের স্কুলে যেতে রাজি করান। কিন্তু গ্রীষ্মে স্কুল ছুটির সময় দুঃসাহসিক কাজের সন্ধানে পুরো ইউরোপ চষে বেড়ানো থেকে ছেলেকে কখনো বিরত রাখতে পারেননি তিনি।

১৯৩২ সালে অরটিজ ফের স্কুলত্যাগ করেন এবং ফরাসি বিদেশি সেনাদলে যোগ দেন। ১৯৪০ সালে জার্মানদের হাতে ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত ওই সেনাদলেই ছিলেন তিনি। জার্মানরা তাকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে আটকে রেখেছিল। বন্দি অবস্থায় বেশ কয়েক বার পালাবার চেষ্টা করেন অরটিজ কিন্তু পারেননি। পরে ভিয়েনা হাসপাতালের এক নার্স তাকে ফ্রান্সে পালাতে সহায়তা করেন। সেখানে তিনি কিছুদিন প্রতিরোধ বাহিনীতে ছিলেন। পরে অরটিজ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘জার্মানদের হাত থেকে পালানোর পর এক মাস প্যারিসে ছিলাম। নাৎসি জার্মানির গোপন পুলিশ বাহিনী গেস্টাপোর সদর দপ্তরে কোনোমতে একটি চাকরি নিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু পারিনি। পরে মনে হয়েছে, আমার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরা উচিত এবং সরাসরি দেশের সেবা করা দরকার। ১৯৪১ সালের শেষে পার্ল হারবারে হামলার পর নিউ ইয়র্কে ফিরে যাই এবং দ্রুত নৌবাহিনীতে যোগ দিই।’

গোপন মিশন

সাইমনের বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সময় অর্থাৎ ১৯৪৪ সালের মে মাসে ফ্রান্সে ইউনিয়ন ১ নামে গোপন মিশনে ছিলেন অরটিজ। ওই মিশন শেষে তিনি নিজেকে পরবর্তী মিশনের জন্য প্রস্তুত করছিলেন। ওই সময় ফ্রান্সের প্রতিরোধ যুদ্ধ সংগঠিত ও সাইমনের মতো আরও অনেক বিমান বাহিনীর সদস্যকে নিরাপদে সীমান্ত দিয়ে পালানোয় বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখায় নেভি ক্রস পদক পান অরটিজ। ইউনিয়ন ১ মিশন শেষের মাসখানেক পর দ্বিতীয় মিশন শুরুর সবুজ সংকেত দেয় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা অফিস অব স্ট্র্যাটেজিক সার্ভিসেস (ওএসএস) ও ব্রিটিশ স্পেশাল অপারেশনস এক্সিকিউটিভ (এসওই)। অরটিজ অল্প সময়ের মধ্যে তার দল গুছিয়ে ফেলেন। তার দলে ছিলেন ফ্রান্সিস এল কুলিজ নামে এক কর্মকর্তা যিনি উত্তর আফ্রিকায় বিদেশি সেনাদলে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ছিলেন ওই সময় ইংল্যান্ডে অবস্থান করা নৌবাহিনীর পাঁচ সদস্য। ১৯৪৪ সালের ১ আগস্ট অরটিজ ও তার দলের সদস্যরা ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গিরিপথ কোল দি সিজিতে বিমান থেকে নামেন। ফরাসি প্রতিরোধ যোদ্ধারা তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ফরাসি গেরিলা যোদ্ধারা তখন পর্যন্ত প্যারিস পুনর্দখল করতে পারেননি। তবে তারা জার্মান সেনাবাহিনীকে চাপে রেখেছিলেন। পরিস্থিতি দেখা বোঝা যাচ্ছিল, স্বাধীনতা বেশি দূরে নয় কারণ ফরাসি নারী ও পুরুষরা দলে দলে প্রতিরোধ সংগ্রামে যোগ দেন। অরটিজ জার্মান বাহিনীর ওপর চাইলে তখনই হামলা চালাতে পারতেন কিন্তু তিনি উপযুক্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তার ধৈর্য ও বিচক্ষণতা দেখে মার্কিন নৌ-কর্মকর্তা জ্যাক আর রিজলার বলেছিলেন, ‘অরটিজের মধ্যে ভয় বলতে কিছু ছিল না। শুধু তাই নয়, জার্মানদের মতো চিন্তা করারও ক্ষমতা ছিল তার।’ আগস্টের ১২ তারিখে অরটিজ সিদ্ধান্ত নেন, আক্রমণের এখনই সময়। শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল লড়াই।

আত্মসমর্পণ

মিত্রবাহিনী ও ফরাসি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের একের পর এক হামলায় জার্মানরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। তবে কোণঠাসা হলেও পাল্টা আক্রমণ তারা অব্যাহত রাখে। মন্তগিরোদ নামে এক শহরে নাৎসি বাহিনী আহত গেরিলা যোদ্ধাদের হত্যা করে, গির্জায় আগুন ধরিয়ে দেয় এবং শহর জ্বালিয়ে দেয়। লড়াইয়ের একপর্যায়ে মিত্রবাহিনী ও গেরিলা যোদ্ধারা জার্মানদের পাল্টা আক্রমণের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়। সে সময় অরটিজসহ কয়েকজন যোদ্ধা সেন্ট্রন নামে একটি গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের অবস্থান জানতে পারে জার্মান সেনারা। তারা গ্রামটিতে আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নেয়। অরটিজ ও তার সঙ্গীরা বুঝতে পারেন, পুরো গ্রাম জার্মানরা ঘিরে ফেলেছে এবং যেকোনো সময় হামলা হবে। সেক্ষেত্রে গ্রামটির বাসিন্দাদের বাঁচার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। জার্মানরা এর আগেও গোটা গ্রাম বা শহর জ্বালিয়ে দিতে বা গণহত্যা চালাতে পিছপা হয়নি। গ্রামবাসীরা অরটিজের কাছে অনুরোধ করেন, তারা যেন সেখান থেকে চলে যান। পরে ওই দিনের ঘটনা স্মরণ করে অরটিজ বলেছিলেন, ‘গ্রামের ওই বাসিন্দাদের প্রতি গভীর দায় সে সময় অনুভব করেছিলাম। তাই গ্রামবাসীদের ছেড়ে দেওয়ার শর্তে আমরা আত্মসমর্পণ করি। আমি জানতাম, আমার ওই সিদ্ধান্তের ফল কী হবে। শত্রুদের হাতে আমাদের নির্যাতিত হতে হবে এবং প্রাণ হারাতে হবে। আমাদের সাধারণ যুদ্ধবন্দি হিসেবে যে দেখা হবে না, আমি জানতাম। কিন্তু কিছু করার ছিল না। গ্রামের এতগুলো মানুষের জীবন আমাদের কারণে হুমকির মুখে পড়তে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গের দুজন মেরিন সার্জেন্ট রিজলার ও জন বোডনার হয়তো আমার সিদ্ধান্তের সঙ্গে শুরুতে একমত ছিলেন না। যুদ্ধক্ষেত্রে সেনারা মনে করেন, যতক্ষণ লড়াই চালিয়ে যাওয়া যায়, ততক্ষণ আত্মসমর্পণের প্রশ্নই ওঠে না। যাই হোক, আমি কেন আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তা বোডনার ও রিজলারকে ব্যাখ্যা করি। তাদের আমি পালিয়ে যাওয়ারও পরামর্শ দিই। কিন্তু তারা আমার পরামর্শ শোনেনি। আমি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেটাকেই সঠিক মনে করে তারা।’ আত্মসমর্পণের ঘোষণা শুনে জার্মানরা শুরুতে গুলি চালানো অব্যাহত রাখে। এরপর তারা থামে। ইয়োহান কোলব নামে জার্মান এক মেজরের সঙ্গে অরটিজের বাক্যবিনিময় হয়। অরটিজ ওই মেজরকে জানান, তার সঙ্গীরা সবাই আত্মসমর্পণ করবে। তবে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে, কোনো গ্রামবাসীর গায়ে যেন আঁচড় না লাগে। কোলব কথা দেন। অরটিজ চিৎকার করে রিজলার ও বোডনারকে বের হয়ে আসতে বলেন। মেজর কোলবসহ বাকি জার্মানরা আশা করেছিলেন, কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ জন সেনা বের হবে। কিন্তু তারা মাত্র দুজনকে দেখে ক্ষেপে যায়। সব মিলে মাত্র তিন সেনা ওই অঞ্চলে তাদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছিল, এ যেন তারা মানতেই পারছিলেন না। বন্দি করার পর অরটিজ, রিজলার ও বোডনারকে জার্মানির উত্তরাঞ্চলে এক ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৪৫ সালের এপ্রিলে ব্রিটিশ সেনারা ক্যাম্পটিকে মুক্ত করেন এবং মিত্রবাহিনীর ওই তিন সদস্য যার যার দেশে ফিরে যান।