বাংলাদেশের সব মসজিদ-মাদ্রাসা এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর দান সম্পূর্ণভাবে আয়করমুক্ত রাখার পূর্ববৎ আইন চালু অথবা নতুন বিধিবিধান প্রণয়ন করে তা কার্যকর করা, সাধারণ শিক্ষার মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত দ্বীনি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ।
গতকাল মঙ্গলবার সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করেন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা)। সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জেলার শতাধিক কওমি মাদ্রাসার মুহতামিম, মসজিদের ইমাম-খতিব ও ওয়ায়েজরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পীর সাহেব দেওনা বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশে দাতব্য ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দান-অনুদান সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত। যেহেতু আমাদের দেশের মসজিদ-মাদ্রাসা এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের সাহায্য-সহযোগিতায় পরিচালিত হয়, এমতাবস্থায় দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর দাতারা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে দান-খায়রাত করতে পারেন এ জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় দান-অনুদান আয়করমুক্ত রাখার পূর্ববর্তী বিধানটি নবায়ন করে কার্যকর করা অতীব জরুরি।
শিক্ষক পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা, আলিয়া মাদ্রাসায় দ্বীনি পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার শিক্ষার্থীদের জন্য বুনিয়াদি দ্বীনি শিক্ষার ব্যবস্থা, মসজিদভিত্তিক শিশু শিক্ষা চালু, সমাজসেবায় কওমি আলেমদের ভূমিকা, সন্ত্রাস দমন ও মাদকের প্রসাররোধে ইমাম-খতিবদের অবদান এবং সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় প্রতিকারে ওয়াজ-নসিহতের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, জীবন ব্যবস্থার সর্বক্ষেত্রে কোরআন-সুন্নাহ অনুসরণের মধ্যমপন্থা নীতি অনুসরণ এবং সাধারণ শিক্ষার ক্ষেত্রে ধর্মীয় শিক্ষা পাঠ্যক্রম এবং অনুশীলন, জ্ঞানের সব শাখা-প্রশাখাকে ইসলামিকরণ, ইমান-ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো চিহ্নিত করে তা বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সাধারণ শিক্ষার মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত দ্বীনি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, দ্বীনি শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক সব আইন সংশোধন করা, কওমি মাদ্রাসার স্বকীয়তা বজায় রাখা, উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষার প্রয়োজনে ভারতে যাওয়ার জন্য স্টুডেন্ট ভিসা উন্মুক্ত ও সহজতর করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, শিক্ষা কমিশন এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে এক-তৃতীয়াংশ সদস্য হিসেবে আলেমদের সম্পৃক্ত করা, নৈতিক অবক্ষয়রোধে অশ্লীলতা বন্ধে প্রয়োজনীয় কার্যকর আইন প্রণয়ন, ওয়াজ-নসিহতের সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর এবং কোরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু দাবি জানানো হয়।
দৈনন্দিন ইসলাম ডেস্ক