যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সম্পর্কে বরফ কি গলবে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মাসখানেক আগে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহ দেখান। তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ১৮ জুন বেইজিং সফরে যাচ্ছেন। ব্লিঙ্কেনের এই সফর কি দেশ দুটির সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে? অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে চলমান উত্তেজনা কি এই সফর প্রশমিত করবে? লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

ব্লিঙ্কেনের সফর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন আগামী রবিবার বেইজিং সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি চীনের পরারাষ্ট্রমন্ত্রী চিন গ্যাংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর চীন সফরের পর এই প্রথম মার্কিন প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা বেইজিংয়ে যাচ্ছেন। ব্লিঙ্কেনের সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহল দেশ দুটির মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিয়ে ফের আলোচনায় মশগুল। ব্লিঙ্কেনের সফর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের বরফ গলাতে সাহায্য করবে, সেই আশা খুব একটা দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চলতি বছরের মে মাসে জাপানে জি-৭ সম্মেলনে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে আশা পোষণ করেছিলেন এবং এরই অংশ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তিনি সামনের সপ্তাহে চীন সফরে পাঠাচ্ছেন। গত পাঁচ বছরে  চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনমন যে মাত্রায় ঘটেছে, তা থেকে সরে আসতে হলে পারস্পরিক বিশ্বাস অর্জন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এজেন্ডা

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে চীনের সমর্থন, মানবাধিকার, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক ও জলবায়ু পরিবর্তনে সহযোগিতা এসব ইস্যু নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন ও চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্যাং বৈঠকে আলোচনা করবেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রত্যেকটি ইস্যুই চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নয়নের পথে বড় ধরনের বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক জুড ব্লাঞ্চেট বলেন, ‘ব্লিঙ্কেনের সফর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটাবে, এমনটা ভাবার খুব একটা কারণ নেই। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না। তবে একটা বিষয় স্বীকার না করে উপায় নেই। গত পাঁচ বছরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক যে পরিমাণ খারাপ হয়েছে, তাতে ব্লিঙ্কেনের বেইজিং সফরের গুরুত্ব একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দেশ দুটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা পাঁচ বছর পর এক টেবিলে বসছেন এটাই বা কম কী।’

বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কোন্নয়নের পথে অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা বাণিজ্য। এ বিষয়ে দেশ দুটি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বারবার বললেও প্রতিপক্ষের অর্থনীতির যাত্রা থামাতে উভয়কেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ তৎপর দেখা গেছে। করোনাভাইরাস মহামারীর সময় টানা তিন বছর জিরো-কোভিড নীতি অবলম্বন করে চীন। করোনার প্রাদুর্ভাব হ্রাসের পর দেশটি বাণিজ্যের সব পথ উন্মুক্তের ঘোষণা দিলেও বিদেশি কোম্পানিগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান অব্যাহত রেখেছে তারা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলে আসছে, চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তার চিন্তার বিষয় নয়, কিন্তু এশিয়ার দেশটির সেমিকন্ডাক্টরসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের ওপর মার্কিন প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পিছপা হয়নি। বেইজিং সম্প্রতি চীনা কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে, মার্কিন কোম্পানি মাইক্রন থেকে তারা যাতে কোনো চিপ না কেনে। চীনের ওই পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা প্রতিশোধমূলক হিসেবে দেখেছেন কারণ এর আগে বাইডেন প্রশাসন উন্নত চিপমেকিং প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেয়। শুধু তাই নয়,  জাপান ও নেদারল্যান্ডসকে চিপের উপকরণ বিক্রি বন্ধ করতে প্ররোচিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। চীনের সামরিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যেই ওই পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। চীন যেমন যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপকে দ্বিচারিতা হিসেবে অভিহিত করে, ঠিক তেমনি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তার নিজের পদক্ষেপগুলোও প্রশ্নাতীত নয়।

তাইওয়ান ইস্যু

তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। তাইওয়ান কী চায় বা তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে হলে পেছনে ফেরা গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তদশ শতাব্দী থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত তাইওয়ানকে তিনটি দেশ শাসন করে। দেশগুলো হচ্ছে নেদারল্যান্ডস, চীন ও জাপান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্মতিতে তাইওয়ানকে পরিচালনা করে চীন। যুদ্ধের পরপরই চীনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সে তুংয়ের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট আর্মি সে সময় জাতীয়তাবাদী শাসক চিয়াং কাই-শেককে মূল ভূখণ্ড থেকে বিতাড়িত করে। পরে ১৯৪৯ সালে চিয়াং কাই-শেক ও তার সরকার তাইওয়ানে পালিয়ে যান। বহু বছর তারা তাইওয়ানের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন, যদিও নিয়ন্ত্রিত জনগোষ্ঠীর হার ২০ শতাংশের কম ছিল। চিয়াং ও তার উত্তরসূরিরা কয়েক দশক পর্যন্ত মূলত তাইওয়ানে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছিলেন। ২০০০ সালে চেন শুই-বিয়ান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে প্রথম গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করে দেশটি। চেন তাইওয়ানের ক্ষমতায় বসার পর দুদেশের দীর্ঘ শান্তিপূর্ণ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা দুশ্চিন্তায় ফেলে চীনকে। আশির দশকের শুরুতে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নামে এক শাসনকাঠামো প্রস্তাব করে চীন। এই প্রস্তাবে বলা হয়, চীনের সঙ্গে যুক্ত হলে স্বায়ত্তশাসনের অধিকার পাবে তাইওয়ান। চীনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল দেশটি। তবে চীনের বিনিয়োগ ও চীনাদের ভ্রমণের ওপর কড়াকড়ি শিথিল করে দ্বীপ রাষ্ট্রটি। তাইওয়ানের সাবেক প্রেসিডেন্ট চেন শুই-বিয়ান রাজনীতি জীবনের শুরু থেকে দেশটির স্বাধীনতার বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন। ২০০৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চেন দ্বিতীয়বার অংশ নেওয়ার খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে বিচ্ছিন্নতাবিরোধী আইন প্রণয়ন করে চীন। এতে বলা হয়, মূল ভূখণ্ড থেকে বের হেওয়ার চেষ্টা করলে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে বেইজিং।

২০১৬ সালে তাইওয়ানের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন সাই ইং-ওয়েন। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই তিনি চীন থেকে পুরোপুরি স্বাধীন হওয়ার পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং অনেকবার জোর দিয়ে বলেন, তাইওয়ান এক দিন না এক দিন চীনের সঙ্গে মিলিত হবে। তার এই বক্তব্যের সম্প্রতি পাল্টা জবাব দেন সাই। তিনি বলেন, হংকংয়ে চীনের সাম্প্রতিক দমনমূলক পদক্ষেপ এটাই প্রমাণ করে যে, দেশটির ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতি আদৌ কার্যকর নয়। তাইওয়ানের জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা দেশটির প্রেসিডেন্ট সাইয়ের ওই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। কারও দাদা ১৯৪৯ সালে মূল ভূখণ্ড থেকে তাইওয়ানে এসেছেন কি না, এটি এক প্রজন্ম আগেও তাইওয়ানিজদের কাছে বড় ব্যাপার ছিল। এখন তারা চীনের চেয়ে তাইওয়ানকেই বেশি আপন মনে করে। তাইওয়ানের ন্যাশনাল চেংচি ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা যায়, দেশটির ৬৪ শতাংশের বেশি বাসিন্দা তাইওয়ানিজ, কেবল ৩ শতাংশ চায়নিজ। তাইওয়ানভিত্তিক সংস্থা সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের পক্ষ থেকে সম্প্রতি বলা হয়, ৭৭ শতাংশের বেশি তাইওয়ানিজ জানিয়েছেন, চীন হামলা করলে তারা লড়াই করতে প্রস্তুত। দেশের প্রতি তাইওয়ানের নাগরিকদের ভালোবাসা অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দেখেও দেখে না। বিশ্বের মাত্র ১৫টি রাষ্ট্র তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তাইওয়ান ও চীন উভয়ের সঙ্গে কোনো দেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। জাতিসংঘে তাইওয়ানের কোনো আসন নেই। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা তাইওয়ান সরকারের সঙ্গে কাজ করে না। চীনের নির্দেশে তারা তাইওয়ানের অংশীদারও হতে চায় না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কোনো সম্পর্ক নেই। তা সত্ত্বেও দ্বীপ রাষ্ট্রটির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে মার্কিন প্রশাসন। শুধু তাই নয়, তাইওয়ানকে নিয়মিত অস্ত্র সরবরাহ করছে তারা। যুক্তরাষ্ট্র অনেকবার জোর দিয়ে জানায়, তাইওয়ানে চীনের যেকোনো ধরনের হামলা ওয়াশিংটনের

দুশ্চিন্তার কারণ হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী অভিযোগ করে, তাইওয়ান প্রণালি ও দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা সেনারা অনিরাপদ ও অপ্রয়োজনীয় আগ্রাসী কৌশল নিয়েছে। এখানে লক্ষণীয়, দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান প্রণালিতে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ ওই দুই অঞ্চল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছে। গত সপ্তাহে তাইওয়ান জানায়, ৩৭টি চীনা যুদ্ধবিমান দ্বীপটির আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চলের ওপর দিয়ে উড়ে গেছে। অবশ্য কেবল গত সপ্তাহ নয়, মাঝেমধ্যেই তাইওয়ানে বিমান পাঠিয়ে শক্তি প্রদর্শন করে চীন। গত বছর রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর দেশটির ওই শক্তি প্রদর্শন আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পায়।

বেলুনকাণ্ড

চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের চীন সফর করার কথা ছিল। কিন্তু ২৮ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী সময়ে কানাডার পশ্চিমাঞ্চল, আলাস্কাসহ যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বেলুন দেখা যাওয়ায় চীন সফর বাতিল করেন ব্লিঙ্কেন। ৪ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নির্দেশে সাউথ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর উড়তে থাকা বেলুন ভূপাতিত করে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী। বেলুনগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র চীনা গোয়েন্দা বেলুন বললেও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে দেখা যাওয়া উড়ন্ত বস্তুগুলোর একটি আমাদের আবহাওয়া বেলুন, যা ভুলপথে চলে গিয়েছিল। বাকি বেলুন সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেই। তবে আমরা বলতে চাই, অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মাত্রাতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।’ ১৮ ফেব্রুয়ারি জার্মানির মিউনিখ শহরে নিরাপত্তা বিষয়ক সম্মেলনে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন ও চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই। সেখানে ব্লিঙ্কেন চীনকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘আমাদের সার্বভৌমত্বে কোনো ধরনের হুমকি মেনে নেওয়া হবে না। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ যেন আর না হয়।’

গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার একপর্যায়ে দেশ দুটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের দিক থেকে এই উদ্যোগের কারণ হতে পারে, দেশটির জিরো কোভিড নীতির কারণে দুর্বল হয়ে পড়া অর্থনীতি। এ মুহূর্তে চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংকে বৈশ্বিক রাজনীতির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে মাথা ঘামাতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নানা বৈরিতা সত্ত্বেও স্থিতিশীল করা যায় কি না, সেই চেষ্টা হয়তো তিনি করছেন। এদিকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আসন্ন বৈঠকে যদি আশাবাদের সুযোগ থাকে, তবে তা রাশিয়াকে ঘিরে হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একটি অংশ। তবে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা স্কট কেনেডি। তিনি বলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে চীন দূরত্ব সৃষ্টি করবে, এমনটা আমি মনে করি না। ভারতসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে চীন ‘স্বাভাবিক’ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সম্পর্ক চালিয়ে যাবে।”