বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে ডিজিটাল প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস। একই সঙ্গে আসন্ন রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন বর্জনের জন্য কেন্দ্রের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে বরিশাল নগরের অক্সফোর্ড মিশন রোডে তার নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি। এর আগে গত সোমবার ভোটেন দিন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম ফলাফল বর্জন করেন।
সংবাদ সম্মেলন তাপস বলেন, আমি নগরবাসীর ভোটাধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছি। মেরুদন্ডহীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বলেছিলেন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনসহ সরকার ও সরকারের সব সংস্থা ভোটারদের সঙ্গে ডিজিটাল প্রতারণা করেছে। নির্বাচন কমিশন ভোটের ফলাফল আগেই নির্ধারণ করে রেখেছিল। এ নির্বাচনে ইভিএমের সর্বোচ্চ নগ্ন ব্যবহার করে ফল পাল্টে দিয়েছে। আর এ নির্বাচন নিয়ে আমি সবসময় তাদের বিরুদ্ধে সত্য কথা বলেছি। তাই আমাকে ফলাফলে চতুর্থ স্থানে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের কেন্দ্রগুলোর প্রতিটি বুথে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিচরণ আমরা দেখেছি। তাদের সন্ত্রাসীদের কারণে ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশসহ অন্যরা ছিল অসহায়। মোবাইল টিমসহ অন্যরা যখন কেন্দ্রে আসে, তখন আওয়ামী লীগ কর্মীরা পালিয়ে যায়। আমার এজেন্টদের অনেক কেন্দ্রে বসতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচন আচরণবিধি সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করেছে আওয়ামী লীগ।’
তাপস তার ভোটের হিসাব করে বলেন, ‘বরিশালে ৩০টি ওয়ার্ডে জাতীয় পার্টির ১৫১-২৫২ সদস্যবিশিষ্ট ৩০টি কমিটি ছিল। ওয়ার্ডগুলোয় যুব সংহতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা ছিল। এ ভোটগুলো গেল কোথায়? আমি এ ফল প্রত্যাখ্যান করছি। পাশাপাশি রাজশাহী ও সিলেট সিটি নির্বাচন বর্জনের জন্য কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।’ এ সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করার সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের দিকে অভিযোগ তুলে তাপস বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ভাষাজ্ঞানও আছে কি না, তা নিয়ে আমি সন্দেহ প্রকাশ করছি। একজন প্রার্থী জঘন্য হামলা র শিকার হওয়ার পরও উনি বললেন, “তিনি ইন্তেকাল করেছেন কি না?” এমন দায়িত্বহীন ভাষা প্রয়োগ জনগণ হতাশ হয়েছে। নির্বাচনের দিন একজন সম্মানিত মেয়র প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীমের ওপর নগ্ন হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা প্রকাশ করছি।’ একই সঙ্গে বরিশাল সিটি নির্বাচনের ফল বাতিল এবং প্রার্থীর ওপর যে হামলা হয়েছে, তার তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার দাবি জানান তাপস।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লাঙ্গল প্রতীকের প্রধান নির্বাচন পরিচালনাকারী অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল, জেলা জাতীয় পার্টি সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট এমএ জলিল, মহানগর জাতীয় পার্টি নেতা আকতার হোসেন প্রমুখ।