জরিপ

৯.৪৫ শতাংশ শিশু বাংলা বর্ণই চেনে না, ইংরেজি ১৬

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ শিশু বাংলা বর্ণই চেনে না। ইংরেজি বর্ণ চেনে না ১৬ শতাংশ শিশু এবং একক অংকবিশিষ্ট সংখ্যা চেনে না ১৩.৬২ শতাংশ। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশনের এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আজ বুধবার (১৪ জুন) রাজধানীর মিরপুরে ইউসেপ মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের শিখন স্তরের বর্তমান অবস্থা ও শিক্ষার গুণগতমান অর্জন শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এ জরিপের ফল তুলে ধরা হয়।

খুলনা ও রাজশাহী জেলায় ৮৮টি গ্রামের ৭১টি বিদ্যালয়ে এবং ১ হাজার ৭৬০টি পরিবারের ১ হাজার ৫৩৩জন শিশুর ওপর এই জরিপ পরিচালনা করে ওয়েভ ফাউন্ডেশন।

জরিপে দেখা যায়, দেশের প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ১০ দশমিক ২৮ শতাংশ ছেলে শিশু ও ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ মেয়ে শিশু বাংলা বইয়ের একটি বর্ণও পড়তে পারে না। এর বাইরে ১৮ দশমিক ০৪ শতাংশ শিশু ৫টির মধ্যে কমপক্ষে ৪টি শব্দ শনাক্ত করতে পারে। আর ৬১ দশমিক ৯৫ শতাংশ ছেলে শিশু এবং ৫৩ দশমিক ১৪ শতাংশ মেয়ে শিশু ৩টি বা তার কম ভুল উচ্চারণসহ একটি কাহিনি সাবলীলভাবে পারে।

গণিতের অবস্থাও প্রায় একই। এ বিষয়ে ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ শিশু একক অংক বিশিষ্ট সংখ্যা শনাক্ত করতে পারে না। শুধুমাত্র ২৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ শিশু দুটি যোগ সমস্যার সমাধান করতে পারে। আর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠ্য বইয়ের দুটি বিয়োগ ও দুটি ভাগ সমস্যার সমাধান করতে পারে না পর্যায়ক্রমে ৭৯ দশমিক ৫৩ এবং ৯৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ ।

ইংরেজির অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। ছেলে শিশুর মধ্যে ১৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং মেয়ে শিশুর মধ্যে ১৫ দশমিক ২২ শতাংশ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি বইয়ের একটি বর্ণও পড়তে পারে না। ২৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ শিশু ৫টির মধ্যে কমপক্ষে ৪টি ইংরেজি শব্দ শনাক্ত করতে পারে। আর ৮৪ দশমিক ১৫ শতাংশ ছেলে শিশু এবং ৮২ দশমিক ৮৬ শতাংশ মেয়ে শিশু ৩টি বা তার কম ভুল উচ্চারণসহ একটি কাহিনি সাবলীলভাবে পড়তে পারে।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, শিক্ষা অর্জনে নাগরিক মূল্যায়নকে কোনোভাবেই পেছনে ফেলা উচিত নয়। শিক্ষার অধিকার সবার। আমাদের সংবিধানে শিক্ষাকে অধিকার হিসেবে নয়, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের একটি সমন্বিত শিক্ষা অধিকার আইন এখন সময়ের দাবি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী বলেন, স্কুলের পড়া স্কুলেই শেষ হওয়ার নজির আমরা উন্নত বিশ্বে দেখছি। কিন্তু আমাদের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষায় কোনো দেশে এত বহুমুখী শিক্ষা আছে আমার জানা নেই।

ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক কানিজ ফাতেমার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. এস এম জুলফিকার আলী, স্ট্রিট চাইল্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার ইমতিয়াজ হৃদয় প্রমুখ।