ইশ! যদি তাদের মতো হতে পারতাম: অর্চি

ছোটবেলা থেকে নাচ-গানে পারদর্শী। তবে অভিনয় কিংবা উপস্থাপনা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা ছিল না। মা সংগীতের মানুষ হওয়ায় মায়ের কাছে গান শেখা তবে সেটা মাধ্যমিকের পর গান কিংবা নাচে আর সময় দেননি। পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। স্থাপত্য বিষয় নিয়ে পড়া শেষ করে বছর কয়েক স্থপতি হিসেবে চাকুরীও করেন। এরপর ২০১২ সালের দিকে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে উপস্থাপনা শুরু করেন। সেই থেকে শুরু। এগারো বছরে উপস্থাপনা করেছেন অসংখ্য শো। বলছিলাম, অর্চি রহমানের কথা যিনি সাবলীল উপস্থাপনা আর মিষ্টি হাসিতে মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছেন সময় থেকে সময়ে।

গত ঈদেও বেশ ব্যস্ততা ছিল তার। সেদিক থেকে ঈদের আগ মুহূর্তে এসে এখনও যেন ফুরসৎ পাচ্ছেন না খানিক অবসরের। জানান, এখন তার ব্যস্ততার তালিকায় রয়েছে এসএ টেলিভিশনে প্রতিদিনের সেলেব্রিটি শো ‘গল্প কথা’, মাছরাঙা টেলিভিশনের ‘বিনোদন সারাদিন’, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাপ্তাহিক শো, গ্লোবাল টেলিভিশনে টেক শো ‘টেকনোলজি’, চ্যানেল নাইনের স্থপতিদের নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান শো, সফল মানুষদের গল্প নিয়ে একই চ্যানেলের বিশেষ শো ‘সফল যারা কেমন তারা’ এবং রান্নার শো তো রয়েছেই।

‘যেহেতু নিয়মিত শো করি সেহেতু মাসের প্রায় ২৪/২৫ দিন ব্যস্ত থাকতে হয়। সপ্তাহে একদিন অথবা কোনো এক বেলা হয়তো একটু অবসর পাওয়া যায়। দম ফেলার ফুরসৎ নেই বলবো না তবে কোন দিক দিয়ে কমও না।’- বলেন অর্চি।

তিনি বলেন, ‘ভালো লাগা থাকলেও কখনো পর্দার সামনে কাজ করবো এমন পরিকল্পনা ছিল না। নাচ-গান কিংবা তখন টুকটাক মঞ্চে অভিনয় করা হতো। আমার মা খুব চমৎকার গান করেন কিন্তু একটা সময় পর আর কন্টিনিউ করেননি। মা চেয়েছিলেন আমি যেন সেটা করি। মায়ের কাছ থেকে গানের প্রতি ভালো লাগা। একটা সময় আমি গান ছেড়ে দেই এরপর যখন নবম শ্রেনীতে উঠি তখন নাচটাও ছেড়ে দেই। পড়াশোনার পাশাপাশি এ দুটোকে যদি চালিয়ে নিতে পারতাম তাহলে ভালো হতো! এখন এ বিষয়গুলো ভাবলে অনেক খারাপ লাগে।’

যোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘শোবিজে কাজ করা হবে এমনটা ঐ অর্থে ভাবিনি। তবে উপস্থাপনা করতে এসে এত এত গুণীজনদের সাক্ষাৎকার নেওয়া, তাদের সান্নিধ্যে থাকাটা অন্যরকম ভালো লাগা অনুভূতি তৈরি করে।’

‘আমি সিনিয়রদের অনেক বেশি সাক্ষাৎকার নিয়েছি, তাদের সঙ্গে বসার সুযোগ হয়েছে। এরকম অনেকেই আছেন যারা আমার বেশ পছন্দের। সারা যাকের, হাসান ইমাম- উনাদের সঙ্গে অনেকবার বসা হয়েছে, এত স্নেহ আর আদর করেন আমাকে! উনারা জীবনে এত কিছু দেখেছেন, এত অভিজ্ঞতা, এত গল্প তাদের জীবনের সেসব শুনি। সেই মুহূর্তগুলো বেশ উপভোগ করি। আফসানা মিমি আপুকে আমার ভীষণ ভালো লাগে। উনার সঙ্গে দেখা বা কথা হলেও সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ হয়নি। একটা মানুষ কীভাবে এত হাসিমুখে থাকে, এত সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলে; ভাবতেই কেমন যেন লাগে! উনার সঙ্গে কাজ নিয়ে কথা বলার অনেক ইচ্ছে আছে, আড্ডা দেওয়ারও।’

এগার বছরের ক্যারিয়ারে অসংখ্যবার অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন অর্চি কিন্তু অভিনয় কখনোই তাকে টানেনি। অর্চি রহমান বলেন, ‘বিজ্ঞাপন করেছি কিন্তু কোন ফিকশন অর্থাৎ অভিনয় করা হয়নি। কেন জানি আমাকে সেটা টানেনি। অনেক ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস পাই না। যেহেতু অভিনয় শেখা হয়নি সেহেতু যদি ভালো না হয় তাহলে কি হবে! এটা মনে হয়। আমি সবসময় ব্যালেন্সড অ্যান্ড রুটিন মেনে চলতে পছন্দ করি। যেটাতে আত্মবিশ্বাস পাই সেটা করি।

যদি কখনো এমন কোনো চরিত্র পাই যেটা দেখে মনে হবে যে মিস করা যাবে না তখন হয়তো ভেবে দেখতে পারি। সফট, টাচি, ইমোশনাল ক্যারেক্টার আমার পছন্দ। রুমানা রশীদ ঈশিতা, অপি করিম, সাদিয়া ইসলাম মৌ আপু আমার খুব পছন্দের। উনারা তো আইডল। নব্বই দশকের সময়ের প্রতি আমার ভালো লাগাটা বেশি, সে সময়টাতে তাদেরকে পর্দায় দেখতাম। আমার চোখে এখনও উনারা সেই অবস্থানেই আছেন। তাদেরকে দেখে মনে হতো, ইশ! যদি তাদের মতো হতে পারতাম! দুই বোনের গল্পে যদি কখনো ঈশিতা আপুর ছোট বোনের ক্যারেক্টার করার সুযোগ পাই তাহলে কখনো মিস করবো না। অভিনয় করতে চাইবো।’

পাবনার মেয়ে হলেও অর্চির শৈশবের খানিকটা সময় কেটেছে রাজশাহীতে। বাবা সরকারি চাকুরীজীবী হওয়ায় সেখানে খুব বেশি একটা থাকা হয়নি। এরপর ঢাকায় চলে আসা এবং এখানেই তার বেড়ে উঠা।