জনবল সংকটে ব্যাহত উন্নয়ন

গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের পর থেকে জনবল সংকট নিয়েই চলছে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিনেও এর কোনো কার্যক্রম নগরবাসীর চোখে পড়েনি। সম্প্রতি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানকে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার ফলে নগরবাসীর প্রত্যাশা বেড়ে গেছে। নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অফিসে এসে এর কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। অনেকে তাদের বাড়ির প্ল্যান অনুমোদন বিষয়ে নতুন চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথাও বলছেন। তবে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন পাস হয়। পরে ২০২১ সালের ২২ নভেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হেমায়েত হোসেনকে চেয়ারম্যান করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যাত্রা শুরু করে। এ সময় একজন চেয়ারম্যান, একজন সচিবসহ সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের দায়িত্ব পালন করেন। নিয়োগপ্রাপ্তরা সবাই রাজউকে কর্মরত। তারা সবাই এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজউকের ৪৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সংযুক্তি আছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই এখানে অনিয়মিত। এ কারণে নগরবাসীকে কাক্সিক্ষত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অফিসে একজন চেয়ারম্যান, একজন সচিব, একজন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জন্য ৪৮ জন জনবল চেয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান আজমত উল্লা খান গত ৮ জুন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছেন।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একটি নবগঠিত প্রতিষ্ঠান। এখানে স্থায়ীভাবে কোনো জনবল নিয়োগ প্রদান করা হয়নি। ইতোপূর্বে রাজউক থেকে কিছু কর্মকর্তা/কর্মচারীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে অত্র অফিসে প্রেরণ করা হলেও তারা রাজউকের কর্মব্যস্ততার জন্য নিয়মিত গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাজ করতে পারে না। রাজউক থেকে মাত্র দুজন কর্মকর্তা ইমারত পরিদর্শক হিসেবে সংযুক্তিতে দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অতিনগণ্য। ফলে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ, নগর পরিকল্পনা ও প্রকৌশল শাখাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পাদন করা হচ্ছে না। ইতোমধ্যে সাংগঠনিক কাঠামো প্রস্তুত করে তা অনুমোদনের জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন না হওয়ার কারণে জনবল নিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আজমত উল্লা খান বলেন, গাজীপুরের উন্নয়নে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার সঙ্গে সমন্বয় করে নগর উন্নয়নের জন্য কাজ করব। নগরীতে যেসব অপরিকল্পিত স্থাপনা রয়েছে সেগুলোর বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে নকশাবহির্ভূত বেশ কিছু স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। অচিরেই অবৈধ স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, জনবল সংকটের কারণে ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র, নকশা অনুমোদন জলাশয় সংরক্ষণ করা এবং কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই জনগণের সেবার মান উন্নতকরণসহ পরিকল্পিত নগর গড়ার লক্ষ্যে সাংগঠনিক কাঠামো গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর-অধিদপ্তর, গণপূর্ত অথবা রাজউক থেকে ৪৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্তিতে নিয়োগ প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে নগরবাসীর সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

গাউক চেয়ারম্যানের সঙ্গে জিইউজের মতবিনিময় : গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আজমত উল্লা খানের সঙ্গে গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের (জিইউজে) নেতাদের মতবিনিময় সভা হয়েছে। গতকাল দুপুরে নগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় তার কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি গাজীপুরের উন্নয়নে সাংবাদিকসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন।