শরীয়তপুরে দুই পুলিশ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

শরীয়তপুরের জাজিরার পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার সদ্য বদলি হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও পরিদর্শক (তদন্ত) সুরুজ উদ্দিন আহম্মেদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ আদেশ দেওয়া হয়। এদিন সন্ধ্যায় আদেশটি শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পৌঁছায়।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে ওসি মোস্তাফিজকে চট্টগ্রাম এবং পরিদর্শক সুরুজকে বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।

শরীয়তপুরের নাওডোবা এলাকার দুই ব্যবসায়ী সাদ্দাম চোকদার ও বকুল চোকদারকে ছিনতাই মামলায় আটকের পর থানায় নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে ৭২ লাখ টাকার চেক নেওয়ার অভিযোগে এ দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া একই ঘটনায় আগামী ৯ জুলাইয়ের মধ্যে ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে’ নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল মনির ও ওসি মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে পুলিশ সুপারকে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার সাইফুল হক মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের শরীয়তপুর থেকে অন্যত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।’

ভুক্তভোগী দুই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, গত ২৩ মে দ্রুত বিচার আইনে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় ছিনতাই মামলা করেন শাহিন আলম নামে এক ব্যক্তি। ওই মামলায় শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা আহম্মেদ চোকদার কান্দি এলাকার সাদ্দাম চোকদার, বকুল চোকদারসহ নয়জনকে আসামি করা হয়। সেই মামলায় ২৯ মে তিন আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। পরদিন ৩০ মে রাতে সাদ্দাম ও বকুল, সাইদুল শেখ ও আনোয়ারকে নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জে সাদ্দামের বন্ধু আলমগীর চোকদারের বাসায় যান। ওইদিন রাতে তথ্য পেয়ে সেই বাসায় হাজির হন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল মনির ও ওসি মোস্তাফিজুর রহমান এবং জাজিরা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রুবেল ব্যাপারীসহ ১০-১২ জন। সাদ্দাম তাদের জামিনের কাগজ দেখানোমাত্র তা ছিঁড়ে ফেলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল। পরে সাদ্দাম ও বকুলকে লাথি, কিল-ঘুসি, চড়-থাপ্পড়, লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্লাস দিয়ে হাত ও পায়ের নখ উপড়ে ফেলা হয়। এমন নির্যাতন চলে রাত ১টা থেকে পরের দিন ৩১ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত। পরে আত্মীয়স্বজনরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ওসির কাছে ৭২ লাখ টাকার পাঁচটি চেক দিলে নির্যাতন থেকে মুক্তি পান তারা।