ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের মৃত্যু রোধে ইউরোপ ইউনিয়নকে জরুরি পদক্ষেপ" নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা।
সম্প্রতি শত শত অভিবাসী নিয়ে গ্রিসের উপকূলে নৌকাডুবির পর এবার এ আহ্বান জানালো সংস্থাগুলো। এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
শনিবার এক বিবৃতিতে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানায়, ভূমধ্যসাগরে শরণার্থী এবং অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান মৃত্যু পুনরাবৃত্তি রোধ করতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের যৌথ প্রচেষ্টা এবং সমন্বয় প্রয়োজন।
বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সহকারী হাইকমিশনার গিলিয়ান ট্রিগস বলেন, "ইইউ অবশ্যই ভূমধ্যসাগরের কেন্দ্রস্থলে নিরাপত্তা ও সংহতি স্থাপন করবে।" এ ছাড়া আইওএম-এর জরুরী বিভাগের পরিচালক ফেদেরিকো সোডা বলেন, ভূমধ্যসাগরীয় অভিবাসন রুটে বর্তমান পদ্ধতি কাজ করছে না।“
তিনি আরও বলেন, “বছরের পর বছর, এটি সর্বোচ্চ মৃত্যুর হারসহ বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিবাসন রুট হতে যাচ্ছে, তাই দেশগুলোকে একত্রিত হতে হবে এবং নিরাপদ যাত্রার সমাধান করতে হবে।”
এ ছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, “বুধবার যা ঘটেছে তা মানব পাচার বন্ধে মানব পাচারকারীদের বিচারের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়।“
এদিকে জাহাজডুবির ঘটনায় নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রীক নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। বুধবার গ্রিসের উপকূলে আয়নিয়ান সাগরে ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে ৪০০ থেকে ৭৫০ জন লোক ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বলা হচ্ছে ভূমধ্যসাগরে ঘটা সবচেয়ে খারাপ দুর্ঘটনার মধ্যে এটি একটি। এখন পর্যন্ত ৫০০ অভিবাসী নিখোঁজ রয়েছে এবং তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত মাত্র ১০৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৭৮ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
যদিও বুধবার সকালে নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর পরই কোস্ট গার্ড অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে বলে জানায় জাতিসংঘের সংস্থাগুলো।