সেই ২০১৪ সাল থেকে নিজের ক্যাটাগরিতে সেরা মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। ২০১৬ ও ২০১৯ এসএ গেমসে সোনাজয়ী এই দেশসেরা ভারোত্তোলককে এখন পর্যন্ত ঘরের মঞ্চে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি কেউ। গতকাল জাতীয় ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে মেয়েদের ৬৪ কেজি ওজন শ্রেণিতে নিজের রেকর্ডকে আরও উন্নীত করেছেন। তবে এই সাফল্যে আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। এই ইভেন্টে দ্বিতীয় হওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিথী রানীর সঙ্গে যে মাবিয়ার ব্যবধানটা অনেক। ঘরে চ্যালেঞ্জারের খোঁজ মিলছে না বলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে গিয়ে মাবিয়াকে খাবি খেতে হয়। তাই ২৩ বছরের মাবিয়ার চাওয়া নিজের ঘরে এমন একজন প্রতিপক্ষ, যাকে হারাতে ঘাম ঝরাতে হয় আরও।
গতকাল ভারোত্তোলন ফেডারেশনের অপরিসর জিমে ৬৪ কেজি ইভেন্টে মাবিয়া শুরু থেকেই প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেছেন। প্রথমেই স্ন্যাচে ৮১ কেজি ওজন তুলে সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমসে গড়া নিজের ৮০ কেজির রেকর্ড পেছনে ফেলেন। এরপর ক্লিন অ্যান্ড জার্কে চেষ্টা করেছিলেন নিজের আগের ১০৩ কেজির রেকর্ড ভাঙতে। তবে ১০৪ কেজির দুইবারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ৯৯ কেজি তুলতে পারেন তিনি। মোট ১৮০ কেজি তুলে সেরা হন মাবিয়া। আর দ্বিতীয় হওয়া বিথী রানী সব মিলিয়ে তুলতে পারেন ১৩৬ কেজি। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে এই ভারোত্তোলক তুলেছেন মাবিয়ার স্ন্যাচের ওজনের ছয় কেজি কম।
তাই আক্ষেপ করেই দেশ রূপান্তরকে মাবিয়া বলেন, ‘সেই শুরু থেকেই আমার ওজন শ্রেণিতে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কাউকে পাচ্ছি না। একজন ভালো প্রতিপক্ষ পেলে নিজের মধ্যে আরও ভালো করার প্রেরণা বাড়ত। সেটা তো আর হচ্ছে না। তাই নিজের সেরাকেই বারবার ভাঙার চেষ্টা করি প্রতিবার।’
২০১৬ সালে কাতারে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ইরানের এক প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে সেরা হয়েছিলেন মাবিয়া। ৭ বছরের ব্যবধানে সেই ইরানি ভারোত্তোলক বিশ^ মঞ্চে নিয়মিত পদক জিতছেন। সেই কথা জানিয়ে মাবিয়ার কণ্ঠে সেই পুরনো আক্ষেপ, ‘ঘরে এত ভালো করি। বাইরে কেন পারি না। এই প্রশ্ন প্রায়ই শুনতে হয়। তবে প্রশ্নকর্তারা এটা জানতে চায় না যে অন্য দেশের ভারোত্তোলকরা কী পরিমাণ সুযোগ-সুবিধা পায়। যেটা আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিদেশে গিয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দূরে থাক, দেশেও একজন বিদেশি কোচের অধীনে নিজেকে তৈরি করতে পারিনি।’