এই বাংলায় একটা সময় মায়েরা ফ্রিজ কী সেটাই চিনতেন না। দিনে রান্না করে দিনেই খাওয়ার ব্যবস্থা করতেন। যদি ভালো খাবার হতো দু-এক দিন তরকারি চুলায় গরম করে রাখতেন। ইলিশ বা সামুদ্রিক মাছে লবণ দিয়ে অনেক দিন পরও খাওয়া যেত। অবশ্য সময় বদলেছে। নারীদের অত কষ্ট এখন আর করতে হয় না। ফ্রিজের আবিষ্কার বদলে দিয়েছে পুরো বিশ্বের খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে। বদলেছে বাংলাদেশের চিরায়ত চিত্রও! কিন্তু জানেন কি, এ ফ্রিজের আবিষ্কার হলো কার হাতে? আজকের দেশ রূপান্তরের পাঠকদের জন্য থাকছে সে ইতিহাসও।
উইলিয়াম কুলেন একজন স্কটিশ চিকিৎসক, অধ্যাপক, রসায়নবিদ ও কৃষিবিদ ছিলেন। জানুয়ারির ১ তারিখে ১৭৪৮ সালে তিনি গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম কৃত্রিম হিমযন্ত্র প্রদর্শন করে। তিনি তার তত্ত্বে বলেন, দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যাবে, এমন এক ধরনের গ্যাস ব্যবহার করেই খাদ্যবস্তু ও পানীয় ঠান্ডা রাখা সম্ভব। তবে তিনি এ ধারণাকে কাজে লাগিয়ে কোনো ধরনের কাজ এগোতে পারেননি।
পরবর্তী সময়ে টমাস মুর ১৮০২ সাল নাগাদ এক ধরনের আইসবক্স তৈরি করেন তার ডেইরি পণ্য ঠান্ডা রাখার জন্য। তিনি এই কুলিং সিস্টেমের নাম রাখেন ‘রেফ্রিজারেশন’। এরপর ১৮০৩ সালে মুর প্রথম ‘রেফ্রিজারেটর’ নামে পেটেন্ট নেন। মার্কিন সিভিল যুদ্ধের পর ১৮৩০ সাল থেকে এই রেফ্রিজারেটরের চাহিদা বাড়ে এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য এ ধরনের যন্ত্রপাতির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ১৯১৩ সাল নাগাদ ফ্রেড ডব্লিউ উলফ সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য প্রথম বৈদ্যুতিক রেফ্রিজারেটর আবিষ্কার করেন, যার বিবর্তন শেষে বর্তমানে আমরা আধুনিক রেফ্রিজারেটরের সুবিধা ভোগ করতে পারছি।
ফ্রেড ডব্লিউ উলফের আবিষ্কারের পরবর্তী সময়ে নানাভাবে বিবর্তন হয়েছে গৃহস্থালি রেফ্রিজারেটরের, তা মানুষের জন্য আরও বেশি ব্যবহারের উপযোগী হয়েছে। বাসাবাড়িতে খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজারগুলো বিভিন্ন আকারের হয়ে থাকে। সবচেয়ে ছোট মডেলের মধ্যে আছে চার লিটার পেলটিয়ার রেফ্রিজারেটর। আর বড় আকারের রেফ্রিজারেটরগুলো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মাথাসমান উঁচু হতে পারে, প্রস্থে হতে পারে এক মিটার এবং ধারণক্ষমতা ৬০০ লিটার। রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার রান্নাঘরে স্থায়ীভাবে বসানো থাকতে পারে, আবার চলনশীলও হতে পারে। প্রযুক্তির উন্নয়নে দিন দিন গৃহস্থালি পণ্যটি আরও আধুনিক হচ্ছে। ফলে মানুষের জীবন হচ্ছে সহজ ও স্বস্তির।