বোন ও নানির গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিল ভাই!

গাজীপুরের জয়দেবপুরে সৎবোন ও নানির গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গতকাল রবিবার বেলা দেড়টার দিকে শিরিরচালা গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

তারা হলো স্থানীয় হাজী নুরুল ইসলাম মডেল একাডেমির সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার আয়েশা (১৩) ও তার নানি বেবি বেগম (৫৫)।

বাবা শফিকুর রহমান শফিক অভিযোগ করে বলেন, দুপুরে নানির সঙ্গে হেঁটে স্কুল থেকে বাসায় ফিরছিল সানজিদা। বাসার অদূরে রাস্তায় মোটরসাইকেল নিয়ে সৎভাই শুভ ও সাব্বিরসহ তিন যুবক এবং দুই নারী তাদের পথরোধ করে। একপর্যায়ে তাদের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন নানি-নাতনির শরীরে আগুন জ্বলতে দেখে পানি ঢেলে তা নেভায়। এরপর স্বজনরা খবর পেয়ে তাদের গাজীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে রাতে ঢাকায় বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।

শফিক জানান, প্রথম স্ত্রী অর্থাৎ সানজিদার মা ইভা ইসলাম ২০১৩ সালে মারা যাওয়ার পর ২০১৫ সালে তিনি বিয়ে করেন মনিরা বেগম নামে এক নারীকে। মনিরার আগের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় বিয়ের পর কিছুদিন ভালো চললেও পরে মনিরার দুই ছেলেই বিপথে চলে যায়। সেজন্য দুই ছেলেকে তার বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত মাসে মনিরা তাকে ছেড়ে চলে গিয়ে তালাকনামা পাঠায়। চলে যাওয়ার সময় তার বাসা থেকে ৯ লাখ টাকার আলাদা চারটি চেক চুরি করে নিয়ে যায়। সেই ঘটনায় শফিক মামলা করেন। এতে মনিরার ছেলে শুভ তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। গত বৃহস্পতিবার স্কুল থেকে একা বাসায় ফেরার পথে শুভসহ তিনজন মিলে সানজিদাকে হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর শুক্রবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে শুভ তার মেয়ের গায়ে আগুন দিয়েছে।

বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, সানজিদার শরীরের ৫২ শতাংশ ও বেবির শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের দুজনেরই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সানজিদাকে আইসিইউতে আর বেবিকে ফিমেল এইচডিইউতে ভর্তি রাখা হয়েছে।