চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়া সেই গার্মেন্টসকর্মীর মৃত্যু

ময়মনসিংহের ভালুকায় নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করতে চলন্ত বাস থেকে লাফ দিয়ে গুরুতর আহত গার্মেন্টসকর্মী শামছুন্নাহার (৩৮) মারা গেছেন। গতকাল রবিবার বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা গ্রামের বাসিন্দা দুই সন্তানের জননী শামছুন্নাহার স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ী নয়নপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রিদিশা গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে শ্রীপুরের মাওনা বাসস্ট্যান্ড থেকে হাইওয়ে মিনিবাসে ওঠেন। বাসটি ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে আসার পর অন্য যাত্রীরা বাস থেকে মেনে পড়েন। একমাত্র যাত্রী ভিকটিমকে নিয়ে খালি বাসটি ভালুকার উদ্দেশে রওনা দেয়।

এ সময় বাসচালক রাকিব মিয়া তার হেল্পারকে বাস চালানোর দায়িত্ব দিয়ে চালক ও সুপারভাইজার ভিকটিমকে চলন্ত বাসেই জোরপূর্বক ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। ওই নারী তার সম্ভ্রম রক্ষার্থে জামিরদিয়া মায়ের মসজিদ এলাকায় চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়েন। এতে তিনি মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ আহত নারীকে উদ্ধার করে ভালুকা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর তার জ্ঞান না ফেরায় রাত ২টার সময় আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক কামাল হোসেন বলেন, শামছুন্নাহারের মাথার আঘাত খুব গুরুতর ছিল। শনিবার দুপুরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। মূলত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহত শামছুন্নাহারের ছোট ভাই সেকান্দার আলী জানান, লাশের ময়নাতদন্ত শেষে কিশোরগঞ্জ নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, নিহত শামছুন্নাহারের এক মেয়ে আর দুই ছেলে। ছেলেরা পড়াশোনা করছে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর শামছুন্নাহার পোশাক কারখানায় কাজ করে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতেন। গত শুক্রবার রাতে পুলিশের মাধ্যমে তিনি বোনের এ দুর্ঘটনার খবর জানতে পেরে রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি করেন।

ভালুকা মডেল থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং বাসের চালক রাকিব মিয়া, বাসের হেলপার আরিফ মিয়া ও সুপারভাইজার আনন্দ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ভালুকা মডেল থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। পরে শনিবার বিকেলে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।