কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘেঁষা পাহাড় ঘিরে সক্রিয় ৪-৫টি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। বিশেষ করে ডাকাতি ছাড়াও তারা সাগরপথে মানবপাচার, অপহরণ, মাদক কারবারে জড়িত। এসব দলের মূলহোতা ডাকাত আরিফুল ইসলাম।
অবশেষে সোমবার (১৯ জুন) ভোরে টেকনাফের নতুন পল্লানপাড়া পাহাড়ি বৈদ্যঘোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে র্যাব-১৫।
র্যাব বলছে, আটক আব্দুল আরফ ওরফে আরিফুল ইসলাম (৪৬) টেকনাফের নতুন পল্লান পাড়া মৃত সিরাজুল ইসলাম মেম্বারের ছেলে। তিনি সাগর পথে মানব পাচার, অপহরণের মূলহোতা ছিল। রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষদের জিম্মি করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মিয়ানমার ও মালয়েশিয়ায় পাচার করত। তার ভাই ইউপি সদস্য মো. ফারুক মেম্বারের ছত্রছায়ায় এলাকায় ভয়ংকর মানব পাচার সিন্ডিকেট রয়েছে তার। এমন কি এসব কাজে ব্যবহার করতে কিশোর গ্যাংও গড়ে তোলে। তার বিরুদ্ধে মানব পাচার, ডাকাতি ও মাদকসহ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজারের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-১৫) সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ল’ এন্ড মিডিয়া) মো. আবু সালাম চৌধুরী জানান, পাহাড় কেন্দ্রীক শীর্ষ ডাকাত এবং মানব পাচারের মূলহোতা আরিফের অবস্থানের খবরে র্যাব ওই এলাকা ঘিরে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় পালানোর চেষ্টাকালে তাকে আটক করা হয়।সে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেন্দ্রীক মাদক, অপহরণ, মানব পাচারসহ ডাকাতির আস্তানা গড়ে তোলেন। আমরা তার সহযোগিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।
জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার ওসি আব্দুল হালিম জানান, পাহাড়ের ত্রাস শীর্ষ ডাকাত ও মানব পাচারকারীর মূলহোতা আটক আরিফুল ইসলামকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে রিমান্ড চাওয়া হবে।
এদিকে, স্থানীয়রা জানান, টেকনাফ নতুন পল্লান পাড়া এলাকার আরিফ দীর্ঘদিন যাবত তার নিজ বাড়ির পেছনে পাহাড়ে অবস্থান করে মাদক, মানবপাচার, অপহরণসহ নানান অপরাধে জড়িত। সে টেকনাফ বাস স্টেশন থেকে সিএনজি থেকে স্থানীয় এবং রোহিঙ্গাদের অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করেন এবং তার নেতৃত্বে স্থানীয় ও রোহিঙ্গাসহ ১০-১৫ জনের একটি বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। তিনি ও তার ভাই ইউপি সদস্য আব্দুল ফারুক এবং প্রভাবশালী নেতাদের ছত্র-ছায়ায় দীর্ঘদিন এই অপকর্ম করে আসছে বলে জানা যায়।