সিভি হচ্ছে একজন চাকরিপ্রার্থীর প্রথম পরিচিতি। তাই সিভি হতে হবে নির্ভুল ও পরিপাটি। কিন্তু, সিভিতে আমরা কিছু ভুল করে থাকি। এই ভুলগুলো একজন চাকরিপ্রার্থীকে অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে রাখে। এমনিক ইন্টারভিউ থেকে ডাক না পাওয়ার কারণও এসব ভুল। এখানে তেমন ৫টি ভুলের কথা উল্লেখ করা হলো। যেগুলো এড়িয়ে চললে সিভি হবে পরিপাটি।
বানান ভুল : দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও প্রায় ৫০ শতাংশ সিভিতে বানান ভুল থাকে। আর সিভিতে বানান ভুল মারাত্মক ত্রুটি। এ ধরনের সিভির মালিককে নিয়োগকর্তারা অসচেতন মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করেন। যা চাকরি বাজারে যে কাউকে অন্যদের থেকে পিছিয়ে রাখবে। তাই সবচেয়ে ভালো হয় সিভি তৈরি করে অভিজ্ঞ কাউকে পড়তে দেওয়া।
দীর্ঘ সিভি : সিভি কোনোভাবেই দীর্ঘ করা যাবে না। ভুলে গেলে চলবে না, নিয়োগকর্তাদের হাতে সময় কম। তারা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সিভি দেখে প্রার্থী নির্বাচন করতে চান। সিভি সবসময় ২ পৃষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত তথ্য না দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোই দিন। এমনকি আপনার যদি অনেক বছরের অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে বিস্তারিত লিখতে যাবেন না। বরং সেগুলো খুব সংক্ষেপে লিখুন। কারণ, আপনি ১০ বছর আগে কী করেছিলেন তা নিয়ে নিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকে না। বরং ক্যারিয়ারের সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কী করেছেন তারা সেটি দেখেন। তাই আপনারও সেদিকে মনোনিবেশ করা উচিত।
জোড়াতালি : অনেকে জোড়াতালি দিয়ে সিভি লেখেন। এ ধরনের সিভিতে কোনো ধারাবাহিকতা থাকে না। এসব সিভি নিয়োগকর্তাদের কাছে বিরক্তিকর লাগে। সিভি হতে হবে সাজানো-গোছানো ও পরিপাটি। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিবরণ ধারাবাহিকভাবে লিখতে হবে। ব্যক্তিগত তথ্যেও ধারাবাহিকতা মেনে চলতে হবে। অনেকে আবার অনলাইন থেকে সিভি নামিয়ে তাতে নিজের তথ্য যোগ করে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু, এটা করা কোনোভাবেই ঠিক নয়। অনলাইন থেকে যে সিভি নামানো হয় তার সঙ্গে আপনার ব্যক্তিত্ব নাও মিলতে পারে। কারণ, ওই সিভি আরেকজন তার মতো করে লিখেছেন। সেই ব্যক্তি কখনোই আপনি নন। তাই এ ধরনের ভুল করা যাবে না। নিয়োগকর্তারা খুব সহজে এগুলো শনাক্ত করতে পারেন।
কী ওয়ার্ড ব্যবহার না করা : অনেক মাঝারি ও বড় প্রতিষ্ঠান কাজের বিপরীতে অ্যাপ্লিকেশন ট্র্যাকিং সিস্টেম বা এটিএস অনুযায়ী সিভি ফিল্টার করে। তারা প্রধানত কী ওয়ার্ড ও বাক্যাংশ বিশ্লেষণ করে সিভিগুলো র্যাংক করে। তাই সিভিতে কাজের বিবরণ থেকে কী ওয়ার্ড ও বাক্যাংশ চিহ্নিত করুন। তাহলে এটি এটিএস ফিল্টারে সহায়তা করবে। অনুমান করা হয় ৭০ শতাংশ সিভি এটিএস সিস্টেমের সঙ্গে জড়িত। তাই সিভিতে কী ওয়ার্ড ও বাক্যাংশ ব্যবহার করা জরুরি।
ছোট অর্জন উল্লেখ নয় : অনেক চাকরিপ্রার্থী সিভিতে ভূমিকা ও দায়িত্বের দিকগুলো বর্ণনা করেন। কিন্তু, সিভিতে ছোট ছোট অর্জনকে অন্তর্ভুক্ত করেন না। অথচ, নিয়োগকারীরা সবসময় ভিন্ন কিছু খোঁজেন। তাই ছোট ছোট অর্জনকে সিভিতে উল্লেখ করতে হবে। কারণ, এ ধরনের অর্জনগুলো অন্য যেকোনো প্রতিযোগীর চেয়ে আপনাকে আলাদা করে তুলবে।