রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের এক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার বাড়িতে রাতের বেলা গিয়ে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ লিমন। কাউন্সিলর প্রার্থী মামার পক্ষে ওই নির্বাচন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করতে তিনি রবিবার রাত ৯টার দিকে টাকা নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন এমন অভিযোগে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। পরে রাত ১২টার দিকে লিমনকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতভর পুলিশ হেফাজতে থাকার পর গতকাল সোমবার সকালে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পান তিনি।
লিমন যার বাসায় অবরুদ্ধ ছিলেন তিনি হলেন রাজশাহীর সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন। তার দাবি, লিমনের সঙ্গে টাকা লেনদেনের কোনো ঘটনা ছিল না।
আওয়ামী লীগ নেতা লিমনের মামা আব্দুল হামিদ সরকার টেকন রাসিকের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর এবং এবারের নির্বাচনেও একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী।
এলাকাবাসী জানায়, রাত ৯টার দিকে নগরীর সাগরপাড়া এলাকায় নির্বাচন কর্মকর্তা আবুল হোসেনের ভাড়া বাসায় ঢোকেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ লিমন। এর পরপরই ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে ওই বাসায় অবরুদ্ধ করেন। তখন লিমনের বাবা রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর ইকবালসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা সেখানে যান। পরিবারের নারীরা চিৎকার করে কান্নাকাটি করতে থাকেন। অন্যদিকে অবরুদ্ধকারী ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা লিমনের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। পরে রাত ১২টার সময় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুলিশ লিমনকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রাশিক দত্ত বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছিলাম, লিমন তার মামা ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল হামিদ সরকারকে জেতানোর জন্য নির্বাচন কর্মকর্তাকে টাকা দিতে আসেন। লিমনের সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন। আমরা এ খবর পাওয়ার পর সেই বাসা ঘিরে রাখি। আমরা ওপরে ওঠার আগেই লিমনকে বাসায় অবরুদ্ধ করার সময় একটি ব্যাগ নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে দুজন পালিয়ে যায়। ওই ব্যাগ টাকাভর্তি ছিল।’
এদিকে গতকাল সকালে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়া পান লিমন। বাবা মীর ইকবালের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।