পক্ষাঘাত বা প্যারালাইসিসের কারণ মস্তিষ্কের স্ট্রোক। মস্তিষ্কের রক্তনালির মধ্যকার রক্ত চলাচলে ব্যাঘাতের কারণে এ রোগ হয়। হঠাৎ করে মস্তিষ্কের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে একদিকের অঙ্গগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেয়। একেই বলে পক্ষাঘাত। অনেক সময় কম তীব্র স্ট্রোকের কারণে শরীরের এক পাশে আংশিক পক্ষাঘাত অথবা উভয় পাশে পক্ষাঘাত দেখা দেয়। উপসর্গ : মস্তিষ্কের ভিন্ন ভিন্ন জায়গা শরীরের ভিন্ন ভিন্ন অংশের কাজের জন্য নির্দিষ্ট থাকে। তাই মস্তিষ্কের কোথায় কতটুকু আক্রান্ত হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে স্ট্রোকের উপসর্গ। স্ট্রোকের পর শরীরের এক পাশ অথবা অনেক সময় দুই পাশই অবশ হয়ে যায়। মাংসপেশির টোন বা স্থিতিস্থাপকতা প্রাথমিক পর্যায়ে কমে যায়। পরে আস্তে আস্তে টোন বাড়তে থাকে অথবা হাত ও পায়ের মাংশপেশি দুর্বল ও নরম হয়ে যায়। হাত ও পায়ে ব্যথা থাকতে পারে। নড়াচড়া সম্পূর্ণ বা আংশিক কমে যেতে পারে। মাংসপেশি শুকিয়ে অথবা শক্ত হয়ে যেতে পারে। কথা বলা বা খাবার খেতেও সমস্যা দেখা দেয়।
চিকিৎসা : এ রোগে আক্রান্ত রোগীকে একজন বিশেষজ্ঞ নিউরোলজিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পিচ থেরাপিস্টসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে গঠিত ট্রিমের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন। ওষুধপত্র স্ট্রোকের রোগীকে ঝুঁকিমুক্ত করতে পারলেও শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পারে না। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ম্যানুয়াল চিকিৎসা : চেস্ট থেরাপির মাধ্যমে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক করা। সঠিক পজিশনিংয়ের মাধ্যমে বেডশোর প্রতিরোধ করা। অ্যাকটিভ এবং পেসিভ টেকনিকের মাধ্যমে মাংসপেশির স্বাভাবিক দৈর্ঘ্য বজায় রাখা। বেড মবিলিটি টেকনিকের মাধ্যমে রোগীকে বিছানায় শোয়া থেকে বসা ও দাঁড়ানোর অভ্যাস করানো। প্যাসিভ মুভমেন্টের মাধ্যমে মাংসপেশির স্বাভাবিক টান ফিরিয়ে আনা ও শরীরের বিভিন্ন অস্থিসন্ধির স্বাভাবিক নাড়ানোর ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা। ব্যালান্স ও কো-অর্ডিনেশন টেকনিকের মাধ্যমে এগুলো উন্নত করা। রোগীর কর্মদক্ষতা বাড়ানো। রোগীর মানসিক অবস্থা উন্নত করা। অবস্থার ওপর ভিত্তি করে রোগীকে হুইলচেয়ার, ক্র্যাচ, ফ্রেম বা স্টিক ব্যবহার করতে হবে। এবং একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রাখতে হবে।