নরসিংদী রেলস্টেশনে ট্রেনচালককে পাথর নিক্ষেপ

নরসিংদী রেলস্টেশনে ট্রেনের ইঞ্জিনে ওঠা নিয়ে চালকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে তাকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেছেন কয়েকজন তরুণ। এতে ইঞ্জিনের বগির একটি জানালার গ্লাস ভেঙে গেছে। তবে অল্পের জন্য পাথরের আঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন ট্রেনচালক।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে সিলেটগামী আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্রেনটি স্টেশনে প্রায় ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিল।

রেলওয়ে পুলিশ জানায়, ট্রেনটি গতকাল রাতে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। এটি বিমানবন্দর রেলস্টেশনে যাত্রা বিরতি দিলে ইঞ্জিনে চড়ে ভ্রমণ করতে চান নরসিংদীর কয়েকজন তরুণ যাত্রী। এ সময় ট্রেনচালক তাঁদের ইঞ্জিন চড়ে ভ্রমণে বাধা দেয়। তাদের সেখান থেকে নামিয়ে দিয়ে যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট বগিতে ভ্রমণ করতে বলেন। এতে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে চালকের সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এক পর্যায়ে তাঁরা ইঞ্জিন থেকে নেমে বগিতে চলে যান।

পরে রাত পৌনে ১০টার দিকে ট্রেনটি নরসিংদী রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যাত্রা বিরতি দেয়। এ সময় ওই তরুণরা এগিয়ে এসে ট্রেনচালকের সঙ্গে আবার তর্কে জড়ান। বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে তাঁরা রেললাইনের পাথর কুড়িয়ে চালক বরাবর ছুড়ে মারেন। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পান চালক। তবে পাথরের আঘাতে ট্রেনটির ইঞ্জিনের একটি জানালা ভেঙে গেছে। পরে দ্রুত ওই তরুণেরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

ঘটনার সময়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন তরুণ ক্ষিপ্ত হয়ে ইঞ্জিনের চালকের দিকে তেড়ে আসছে। একজন মুরুব্বি তাদের আটকানোর চেষ্টা করছে। আর চালককে বলতে শোনা যাচ্ছে, তোদের ছবি উঠিয়ে নিয়ে গেলাম, তোদের সবগুলোর নামে মামলা দিবো। এ সময় উভয় পক্ষকেই গালিগালাজ করতে শোনা যায়।

নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির (ইনচার্জ) উপপরিদর্শক কার্তিক চন্দ্র রায় বলেন, ইঞ্জিনে চড়ে ভ্রমণ করতে বাধা দেওয়ায় আক্রোশে তারা নরসিংদীতে নেমে চালককে গালিগালাজ করে। এ সময় তারা পাথর নিক্ষেপ করলে জানালা ভেঙ্গে যায়। তবে চালক কোন আঘাত পায়নি। পরে তারা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় চালক আমাদের কোন অভিযোগ দেয়নি, তবে আমরা জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।