সেই বেনিফিকায় ফিরছেন ডি মারিয়া

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি জুভেন্তাসের। তাই পিএসজি থেকে ফ্রি এজেন্ট হওয়ার পর আনহেল ডি মারিয়াকে দলে টেনে নেয় ইতালি ক্লাবটি। এক বছরের সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ জুন। ঐ সময়ে নেই তার উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য। চোটাক্রান্ত হয়ে মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে দীর্ঘ দিন। ৪০ ম্যাচে ৮ গোল আর ৭ এসিস্ট তার নামের পাশে একদমই বেমানান। তাই বাড়ছে না চুক্তির মেয়াদ। তাই ফ্রি এজেন্ট হয়ে ফিরে যেতে পারেন ইউরোপে তার প্রথম ক্লাব বেনিফিকায়।

অথচ গত দুই বছরে ডি মারিয়ার ঝুলিতে আছে অসংখ্য সাফল্য। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে তিনি জিতেছেন কোপা আমেরিকার ট্রফি। ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেশটির ২৮ বছরের শিরোপা খরা ঘুচিয়েছিলেন তারা। তারপর ইতালির বিপক্ষে দাপুটে জয়ে ফিনালিসসিমার ট্রফি জিতেন। আর শেষটা গত বছরের ডিসেম্বরে। কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩৬ বছর পর ঘরে তুলেন বিশ্ব জয়ের শিরোপাটা।

জাতীয় দলের হয়ে এমন রঙিন সময় কাটানো ডি মারিয়ার ক্লাব পারফরম্যান্স মলিন। তবে তার ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছে না কৈশোরের ক্লাব বেনিফিকা। সেখানেই তার যাওয়ার জোর গুঞ্জন রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের দল ইন্টার মায়ামিতেও যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

তবে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম এ বোলার বরাত দিয়ে ক্রীড়া সাংবাদিক ফেব্রিয়ানো রোমানো টুইটারে লিখেছেন, ইউরোপে ডি মারিয়ার প্রথম ক্লাব বেনিফিকায় ফিরতে চলেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ৩৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ইতোমধ্যে সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে গেছে এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতাই বাকি।

আর্জেন্টাইন ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রাল থেকে ২০০৭ সালে পাড়ি জমান বেনিফিকায়। লাতিন আমেরিকান এই ফুটবলারের সেটাই প্রথম ইউরোপিয়ান কোনো দল। ১২১ ম্যাচে ১৫ গোল আর ২৮ এসিস্টে নজর কেড়েছিলেন তিনি। ২০১০ সাল পর্যন্ত সেখানে থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যান। সেখানে ১৯০ ম্যাচ খেলে করেছেন ৩৬ গোল, করিয়েছেন আরও ৮৫ গোল। জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা।

সেখানে ৪ বছর দারুণ সময় কাটিয়ে পাড়ি জমান ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। এক বছরের চুক্তিতে সেখানে নাম লিখিয়ে খেলেন ৩২ ম্যাচ। ৪ গোল করার পাশাপাশি করিয়েছেন আরও ১২টি। তারপরই চলে যান প্যারিসে। ৭ বছরের ফরাসি অধ্যায়ে ২৯৫ ম্যাচে তার পা থেকে এসেছে ৯৩টি গোল। করিয়েছেন আরও ১১৯টি। ক্লাব ফুটবলে সবচেয়ে দীর্ঘ ও সেরা সময় তার কেটেছে এখানেই।

তারপর চলে যান এক বছরের চুক্তিতে ইতালির ক্লাব জুভেন্তাসে। অবশেষে সেখানেও শেষ হচ্ছে তার চুক্তির মেয়াদ। এবার পাড়ি জমাবেন নতুন কোনো ঠিকানায়। এ বোলার ও ফেব্রিয়ানো রোমানোর ভবিষ্যৎবাণী সত্য হয়ে গেলে পুরনো ঠিকানায় নতুন করে শুরু করতে পারেন এই ফুটবলার।