ঈদ সামনে রেখে সক্রিয় গরুচোর চক্র, গ্রেপ্তার ৮

আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঢাকার আশপাশে সক্রিয় হয়ে উঠেছে গরুচোর চক্র। চক্রটির সদস্যরা গৃহস্থ ও খামারিদের গরু চুরি করে বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করে থাকে। এ রকম একটি চক্রর ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং ৩টি চোরাই গরু উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ ছাড়া চুরির কাজে ব্যবহৃত নম্বরবিহীন একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে সাভার ও এর পাশের ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ওই অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার পারকুলগয়টার মোমিনুল (৩০), ঢাকার দোহারের পুষ্পখালীর রমজান শেখ কালু (৪০), সাভারের ঝাউচরের মো. খোকন (৪০), সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের রোহাবাড়ির শফিকুল ইসলাম (৪৭), রায়গঞ্জের রামেশ্বরগাতির মো. ইব্রাহিম শেখ (২৬), সদর থানার রতনকান্দির আনোয়ার হোসেন (৩৬), রংপুরের কোতোয়ালি থানার মুক্তার হোসেন (৪০) ও নওগাঁর আত্রাইয়ের মো. গাজী (৩৮)।

ডিবি পুলিশ জানায়, ঈদুল আজহা সামনে রেখে একাধিক গরুচোর চক্র ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চুরি করছিল। চোরেরা ১৬ জুন নবাবগঞ্জের বান্দুরা ইউনিয়নের কাঁঠালীঘাটা এলাকার মনুরদ্দিনের (৭০) বাড়ি থেকে দুটি ষাঁড়, একটি গাভিসহ তিনটি গরু চুরি করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওই মামলার সূত্র ধরে মঙ্গলবার রাতে সাভার ও ধামরাইয়ে অভিযান চালিয়ে মোমিনুল ও রমজান শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় খোকনের ঝাউচরের বাড়ি থেকে চুরি করা তিনটি গরু উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া তেঁতুলঝোড়া এলাকা থেকে শফিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। শফিকুলকে জিজ্ঞাসাবাদে মাস দুয়েক আগে সাভারের ভাকুর্তার বেলওয়েথার অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে সহযোগীদের নিয়ে চারটি গরু চুরির কথা জানায়। ওই ঘটনায় সাভার মডেল থানায় গত ৭ এপ্রিল ফার্মের ব্যবস্থাপক তানভীর মাহমুদ মামলা করেন।

ডিবি পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার মোমিনুল ও শফিকুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার মধ্যরাতে সাভারের জিরানী বাজার এলাকা থেকে মো. আনোয়ার হোসেন, মুক্তার হোসেন, মো. ইব্রাহীম শেখ ও মো. গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা সাত-আট মাস আগে ধামরাইয়ের নান্নার এলাকার রেজাউল করিম মেঘু নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে ছয়টি গরু চুরির কথা স্বীকার করে। চুরির ঘটনায় রেজাউল করিম ওই সময় ধামরাই থানায় একটি মামলা করেছিলেন।

ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব বলেন, এ ঘটনায় চোর চক্রের সদস্যদের সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।