বান্দরবানে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ও তার সামরিক শাখা কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)-এর সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ১৮ সদস্যবিশিষ্ট ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা’ কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির মুখপাত্র কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যা। তিনি বলেন, ‘কেএনএফ ও কেএনএ’র তৎপরতার কারণে বান্দরবানের বেশ কয়েকটি অঞ্চল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের জনজীবন অস্থিরতা, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বন্ধ হয়ে গেছে বান্দরবানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ। এরইমধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয়দের অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন, হতাহত হয়েছে কুকি-চিনরাও।
তিনি আরও বলেন, বম জনগোষ্ঠীর বিপথগামী কিছু ছেলেমেয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী পাংখোয়া, খ্যাং, ম্রো, বম, খুমি, লুসাইসহ অনেকে তাদের সঙ্গে আছে। কিন্তু তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার পথে না গিয়ে সরাসরি অস্ত্র হাতে নেওয়ায় সমস্যাটি সংকটে রূপ নিয়েছে। আমরা এর পরিবর্তন চাই। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ মধ্যস্থতার ভূমিকা নিয়ে বম সোশ্যাল কাউন্সিল এবং অন্যান্য সামাজিক প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি শান্তি উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। আমরা এরই মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, সদস্য কাঞ্চন জয় তঞ্চঙ্গ্যা, বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি লালজারবম, ধর্মীয় গুরু ও উপদেষ্ট রেভা: পাকসিমবয়তুং, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও ম্রো সোশ্যাল কাউন্সিলের উপদেষ্টা সিংইয়ংম্রো, সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনু প্রমুখ।